পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন বাড়ি ও জমি দখল না করতে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সতর্ক করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। ফিলিস্তিনি-মার্কিন নাগরিকদের সম্পত্তি দখলের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জেরুজালেমে দেওয়া বক্তব্যে হাকাবি বলেন, অন্যের মালিকানাধীন বাড়ি বা জমি জোর করে দখল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হাকাবি বাইবেল ও ওল্ড টেস্টামেন্টে বর্ণিত দশ আদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, অন্যের মালিকানাধীন বাড়ি বা জমি জোর করে দখল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাঁর এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনা। সেখানে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে রেখেছে। এর মধ্যে একটি বাড়ির মালিক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফিলিস্তিনি-মার্কিন নাগরিক লুই আবু রিদি। সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কুসরায় ফিরে এসেছেন।
হাকাবি জানান, কুসরার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ। তাঁর ভাষায়, বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ও ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত কর্মকাণ্ড ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এতে যারা জড়িত, তাদের ইসরায়েলের ভেতরে উল্লেখযোগ্য শাস্তির মুখোমুখি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এরপরই আসে সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ। হাকাবি বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনায় রয়েছে কি না, সে সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এর আগে সহিংস ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল।
এদিকে কুসরায় উত্তেজনার মধ্যেই ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, আগের রাতে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলির ছোড়া ছররা বা বিস্ফোরণের টুকরোর আঘাতে ৭০ বছর বয়সী এক নারী ও ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী আহত হয়েছেন। নাবলুসের রাফিদিয়া এলাকাতেও ইসরায়েলি সেনাদের অভিযানে তিনজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা যে বাড়ছে, তার একটি চিত্রও উঠে এসেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থার পরিসংখ্যানে। কান-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সেখানে ইহুদি জাতীয়তাবাদী অপরাধের ৬৬০টি গুরুতর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ৪০৫টি ঘটনার তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি। এ সময়ে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতায় ছয় ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৪০ জন আহত হয়েছেন।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়েও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও ইতালি, এই সাত দেশ ইসরায়েলের ই১ এলাকায় নতুন আবাসিক প্রকল্পের নির্মাণকাজের দরপত্রের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, ওই প্রকল্পের দরপত্রে অংশ নেওয়া নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়ে ফেলতে পারে। ইসরায়েলের প্রকাশিত দরপত্র অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য আবেদন করার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর।
ই১ এলাকা জেরুজালেম ও মালে আদুমিমের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড। সেখানে বসতি সম্প্রসারণ হলে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বসতিগুলোর মধ্যে ভৌগোলিক সংযোগ আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এ কারণেই প্রকল্পটি বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক বিরোধিতার মুখে ছিল।
ফলে কুসরায় ফিলিস্তিনি সম্পত্তি দখলের অভিযোগের পাশাপাশি ই১ এলাকায় নতুন বসতি নির্মাণের উদ্যোগ, দুটি ঘটনাই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করেছে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধে বড় বাধা চীন-রাশিয়া
হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে ইমরান খানকে