ইরান যুদ্ধের ছয় মাস: নিহত অন্তত ৭ হাজার ৯০০

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া যুদ্ধ ছয় মাসে পা দিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা এই সংঘাতে শুধু ইরান, ইসরায়েল বা লেবাননই নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানি, আহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়েছে বড় ধরনের চাপ।

সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর লেবাননে অন্তত ৪ হাজার ৩৫০ জন, ইরানে ৩ হাজার ৫২৭ জন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া ইরানের হামলায় ইসরায়েলের ৬০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আরও ৭৫৭ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

তবে হতাহতের এই সংখ্যা চূড়ান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এসব পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিহত ও আহতের সংখ্যা সংশোধিত হতে পারে।

যুদ্ধের বিস্তৃতি বোঝার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো হামলার সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অন্তত ৩ হাজার ৫৮০টি হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে একই সময়ে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২ হাজার ৫৩টি হামলা চালিয়েছে।

অর্থাৎ ছয় মাসে সংঘাতটি কেবল একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে লেবানন, ইসরায়েল, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অংশে।

এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। নিহত ও আহতদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিতে হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে আবাসিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা।

যুদ্ধের প্রভাব অর্থনীতিতেও ব্যাপকভাবে পড়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

প্রথমদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক সংঘাত হিসেবে শুরু হলেও ছয় মাসের ব্যবধানে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। বিমান ও ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানের পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপও বেড়েছে।

হতাহতের সংখ্যা ও হামলার পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, সংঘাতটি শুধু সামরিক শক্তির লড়াই নয়; এর মানবিক ও অর্থনৈতিক অভিঘাতও ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

ছয় মাসে অন্তত ৭ হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু এবং ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি হামলা সেই ভয়াবহতারই পরিসংখ্যানগত প্রতিচ্ছবি। যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যতই জোরদার হোক, ইতোমধ্যে সৃষ্ট প্রাণহানি, ধ্বংস ও অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রভাব দীর্ঘদিন বহন করতে হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

এমএজেড
আরও পড়ুন