যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি মাইনমুক্ত বললেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০০টি জাহাজে থাকা ৬ হাজার নাবিক এখনও প্রণালিতে আটকে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে কাতার ও ইরান। এর মধ্যেই ওই অঞ্চলে নতুন একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) পুঁতে রাখা মাইন সরিয়ে হরমুজ প্রণালির নৌপথ পরিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এ অভিযানের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হয়েছে। অভিযানে ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ ও শত শত বিমান অংশ নেয় এবং ১ হাজার ৫০০টির বেশি জাহাজকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে ইরানে গেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। তেহরানে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা এবং উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপের পরিবেশ তৈরির বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া আবার শুরু করা অসম্ভব নয়। তবে এজন্য ওয়াশিংটনকে চাপের নীতি থেকে সরে এসে আস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের অধিকার স্বীকার করতে এবং আগের প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে চলতে হবে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন সামরিক উপস্থিতিও কমাচ্ছে না। মার্কিন নৌবাহিনীর নতুন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট-এর নেতৃত্বাধীন স্ট্রাইক গ্রুপ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সান দিয়েগো থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে পারে। সাত মাসের বেশি সময়ের সম্ভাব্য এই মোতায়েনের মাধ্যমে এটি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে প্রতিস্থাপন করবে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলাকে যুদ্ধের সমাপ্তির লক্ষণ হিসেবে দেখছেন না। তিনি বলেছেন, ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় চাপের মধ্যে রয়েছে এবং হরমুজ খুলে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে- এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই।
ফলে একদিকে হরমুজ প্রণালির নৌপথ নিরাপদ করার মার্কিন দাবি এবং অন্যদিকে কাতার-ইরানের কূটনৈতিক উদ্যোগ—দুই বিপরীতমুখী তৎপরতার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এগোচ্ছে। নতুন মার্কিন রণতরী মোতায়েনের পরিকল্পনা আবারও ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামরিক চাপের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও ওয়াশিংটন এখনই সামরিক বিকল্প থেকে সরে যাচ্ছে না।
ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর
ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্টের ৫ বছরের কারাদণ্ড, কি ঘটেছিলো?
ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতি মাসে ৬ হাজার সেনার ঘাটতিতে পড়ছে রাশিয়া