যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম ঐক্যের ডাক নাঈম কাসেমের

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

মুসলিম বিশ্বের প্রকৃত ঐক্যের অর্থ হলো অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা বলে মন্তব্য করেছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে মুসলিম, আরব ও বৃহত্তর মানবিক ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী ও ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে কাসেম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মুসলিমদের ঐক্য এমন হতে হবে, যা তাদের শক্তিশালী করবে এবং বিভিন্ন দেশের সরকার ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়াবে।

কাসেমের মতে, প্রকৃত ইসলামি ঐক্যের লক্ষ্য হওয়া উচিত মুসলিম বিশ্বকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করা এবং সাম্প্রদায়িক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভেদ কাটিয়ে ওঠা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অঞ্চলকে খণ্ডিত করতে যেসব বিভাজনমূলক প্রকল্প পরিচালনা করছে, সেগুলো মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ বিরোধের পরিবর্তে মুসলিমদের প্রকৃত শত্রুর দিকে নজর দিতে হবে। এর মাধ্যমে একদিকে বিভাজন ঠেকিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে সেই ঐক্যকে জাতীয় ও মানবিক সংহতির পর্যায়েও বিস্তৃত করা যাবে।

ফিলিস্তিন ইস্যুকে মুসলিম ঐক্যের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরে কাসেম বলেন, এই ইস্যুকে ঘিরেই পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ফিলিস্তিনের প্রশ্ন কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিষয় নয়; এটি ইসলামি, জাতীয়, আরব এবং মানবিক, সব দিক থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

আরব ও ইসলামি দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, তাদের ভাইয়েরা যখন দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন এবং শত্রুরা যখন এই অঞ্চলে প্রবেশ করছে, তখন তারা নীরব থাকতে পারে না। আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আধিপত্যের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কাসেম আরও দাবি করেন, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরান, ইয়েমেন ও ইরাকে বড় ধরনের ত্যাগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আঞ্চলিক প্রকল্প থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে, তবে তারা পরাজিত হবে না। তাঁর মতে, প্রকৃত পরাজয় তখনই হবে, যখন প্রতিপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করে সবকিছু তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

লেবানন সরকারের সমালোচনাও করেন কাসেম। তিনি অভিযোগ করেন, বৈরুত ২৭ অক্টোবরের চুক্তি থেকে সরে গিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় প্রবেশ করেছে।

তিনি বলেন, এসব আলোচনা যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেনি; বরং যুদ্ধকে বৈধতা দিয়েছে। কোনো বিনিময় বা অধিকার আদায় ছাড়াই এমন আলোচনায় যাওয়াকে তিনি শত্রুর কাছে অপমানজনক আত্মসমর্পণ হিসেবে অভিহিত করেন।

লেবাননের জন্য প্রস্তাবিত কাঠামোগত চুক্তির বিরোধিতা করে কাসেম বলেন, হিজবুল্লাহ এই ‘ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি’ প্রত্যাখ্যান করছে এবং এটি বাতিল করা উচিত। তাঁর দাবি, চুক্তিটি বৈধ নয়, আইনসঙ্গত নয় এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে; এর বিনিময়ে দেশটি কোনো অধিকারও ফিরে পাচ্ছে না।

কাসেমের বক্তব্যে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন কাটিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বিত অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: ডন

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত