১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসে বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী রাজা হিসেবে ইতিহাস গড়া উগান্ডার রাজা ওয়ো নাইম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে ৩৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি।
টোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন আর্মস্ট্রং রওমিরে আকিকি বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাজার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, ‘গভীর দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে টোরোর ওমুকামা রাজা ওয়ো নাইম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থের মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি।’
উগান্ডা একটি প্রজাতন্ত্র এবং দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন। তবে ঔপনিবেশিক আমলের আগের কাঠামো অনুযায়ী দেশটিতে কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্র এখনো তাদের নিজ নিজ রাজ্য পরিচালনা করে। এসব রাজতন্ত্রের রাজনৈতিক ক্ষমতা মূলত প্রতীকী হলেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
ওয়ো নাইম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ ছিলেন উগান্ডার পশ্চিমাঞ্চলের টোরো রাজ্যের রাজা। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সীমান্তের কাছে অবস্থিত টোরো একটি ছোট রাজ্য।
বাবা রুকিরাবাসাইজা প্যাট্রিক ডেভিড ম্যাথিউ কাবোয়ো অলিমি তৃতীয়ের মৃত্যুর পর ১৯৯৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মাত্র তিন বছর বয়সে রুকিদি চতুর্থকে রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করা হয়। সিংহাসনে বসার পর তিনি বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী সিংহাসনাসীন রাজা হিসেবে পরিচিতি পান।
রাজার মৃত্যুর খবর ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির সরকারের মন্ত্রী বালাম বারুগাহারা জানিয়েছিলেন, ওয়ো নাইম্বা যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
টোরোর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি অপূরণীয় ক্ষতি।’ তিনি জানান, অবিবাহিত রাজা একজন উত্তরাধিকারী রেখে গেছেন এবং রাজপরিবারের সিংহাসনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত রয়েছে।
রাজার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উগান্ডার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে শোকের ছায়া নেমে আসে। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোতেও ব্যাপকভাবে খবরটি প্রচার করা হয়।
উগান্ডার প্রধান বিরোধী নেতা ও পপ তারকা ববি ওয়াইন এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শোক প্রকাশ করে লেখেন, ‘সবচেয়ে মর্মান্তিক খবর! মহামান্য রাজার আত্মা চিরশান্তি লাভ করুক।’
গত এপ্রিলে রাজার জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় টোরোর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমাদের রাজা তার জনগণের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন নন; তিনি এই প্রজন্মেরই অংশ, এই সমাজেরই অংশ বড় হচ্ছেন, শিখছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেছিলেন, রাজার তরুণ বয়স কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; বরং এটি তার শক্তি, যা টোরোর জন্য নতুন ভবিষ্যৎ কল্পনার উদ্যম, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহস এনে দেয়।
সূত্র: রয়টার্স।
গুমের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে কাঁদলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবসময় শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছেন: পাটওয়ারী
প্রথম ভাষণে প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করলেন নরওয়ের রাজা