শজিমেক হাসপাতালে সংঘর্ষে আহত ১২, কর্মবিরতিতে ইন্টার্নরা

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ এএম

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় ইন্টার্নরা। এ ঘটনায় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে শজিমেক হাসপাতালের সপ্তম তলায় এই ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহরের রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মানিক (৫৫) শ্বাসকষ্ট নিয়ে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে একটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অন্য রোগীর জন্য নির্ধারিত ইনজেকশন আব্দুল মানিককে দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসক ঋতু মণ্ডল স্নিগ্ধ বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, প্রায় ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। কয়েকজনের হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ার কথাও জানা গেছে।

ডা. রিতুল বলেন, ঘটনার বিষয়ে তথ্য হালনাগাদের কাজ চলছে। আহত চিকিৎসকদের সংখ্যা ও তাদের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাচ্ছি।

অন্য দিকে ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সদের পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিনিয়র ও মিড-লেভেলের চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর এ মুর্শেদ বলেন, চিকিৎসকদের সেবা দিতে হলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। হাসপাতালটি শুরুতে ৫০০ শয্যার ছিল এবং সে অনুযায়ী জনবলও ছিল। পরে ১ হাজার ২০০ এবং সর্বশেষ ১ হাজার ৮০০ শয্যার অনুমোদন দেওয়া হলেও সে অনুযায়ী জনবল বাড়ানো হয়নি। ফলে অবকাঠামো ও জনবলের সক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে খবর পাই, শজিমেক হাসপাতালে মানিক নামের এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে মারামারি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্স নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনায় রোগীর স্বজনদের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমইউ
আরও পড়ুন