সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার ভোরে আল-ধাফরা ও আল-মিনহাদ ঘাঁটিতে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। তবে আমিরাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানে বেসামরিক এলাকায় মার্কিন হামলার জবাবে ‘কয়েক ডজন’ কামিকাজে ড্রোন দিয়ে ইউএইতে থাকা মার্কিন বাহিনীর রাডার ব্যবস্থা ও অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, ঘাঁটিটি বিমান অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি, পর্যবেক্ষণ এবং সামরিক সহায়তার কাজে ব্যবহৃত হয়।
ইরানি বাহিনী আরও দাবি করেছে, আল-মিনহাদ ঘাঁটিতেও মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই হামলার দাবির বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি কোনো নিশ্চিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরান বলছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় হতাহতের ঘটনাকে প্রতিশোধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলায় কয়েকজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে ঘটনাটির বিবরণ নিয়ে স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই সম্ভব হয়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন দফায় হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক স্থাপনা, মাইন পাতা-সংক্রান্ত সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে।
এরপর ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করছে। জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইউএই—যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং এসব দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ফলে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ছোট ভাইকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানালেন এমপি বাবুল
কুয়েতে আবাসিক ভবনে ইরানের ড্রোন হামলা
আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে হামলা