ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছেন বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা। ঘরবাড়ি ধ্বংস, নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট, এমনকি খাবার ও পানির অভাবও তাদের ফেরার পথ ঠেকাতে পারছে না। শীত সামনে রেখে ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন তারা।
দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর দক্ষিণে অবস্থিত বহু এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ঘরবাড়ি ও বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধের সময় লাখো মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে অনেক পরিবার নিজেদের গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে ফিরে গিয়ে অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন, তাদের আগের সেই বাড়িটি আর নেই। কোথাও পুরো ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, কোথাও কেবল দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ দাঁড়িয়ে আছে। অনেক পরিবারকে তাই নিজেদের বাড়ির জায়গাতেই অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আশ্রয়ের অভাব। যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভাড়া বাসার চাহিদা বেড়েছে। ফলে অনেক পরিবারের পক্ষে নতুন করে বাসা ভাড়া নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।
শীত ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সেবা ছাড়া শীতকাল পার করা দক্ষিণাঞ্চলের ফিরে আসা পরিবারগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবু অনেক বাসিন্দা বলছেন, নিজেদের বাড়ি ও জমিতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। দীর্ঘদিন বাস্তুচ্যুত থাকার পর তারা আর অন্য কোথাও অনিশ্চিত জীবন কাটাতে চান না। ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির জায়গায় ফিরে এসে নিজেদের জীবন ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে আবার গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তারা।
দক্ষিণ লেবাননে মানুষের ফিরে আসার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও যুদ্ধবিরতির পর হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘর দেখতে ও সেখানে বসবাস শুরু করতে দক্ষিণাঞ্চলে ফিরেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি ও নতুন করে হামলার আশঙ্কা অনেক এলাকায় ফেরাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ২০২৬ সালে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক ‘সরে যাও’ নির্দেশ জারি করেছে এবং কিছু এলাকায় বাসিন্দাদের ফিরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সংস্থাটি এসব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং কিছু ক্ষেত্রে ‘অবৈধ স্থানান্তর’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এর মধ্যেই ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রামগুলোতে বাসিন্দাদের ফিরে আসা একদিকে তাদের নিজভূমিতে ফেরার আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ, অন্যদিকে যুদ্ধের পর পুনর্গঠনের কঠিন বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। ঘর নেই, পর্যাপ্ত পানি নেই, সামনে শীত—তারপরও অনেক লেবানিজের কাছে নিজেদের মাটিতে ফিরে আসাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ লেবাননের এই প্রত্যাবর্তন তাই শুধু বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘরে ফেরার গল্প নয়; এটি যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার মানুষের দৃঢ় প্রত্যয়েরও প্রতিচ্ছবি।
দক্ষিণ লেবাননে ফের ইসরায়েলি হামলা
মাদ্রাসার ছাত্রদের ঠোঁটে সিগারেট দেখবেন না: জামায়াত আমির