ইসরায়েলির গুলিতে নিহত ২ কিশোরের দাফন সম্পন্ন

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত দুই ফিলিস্তিনি কিশোরের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রামাল্লার কাছে আল-মুগাইয়ির গ্রামে তাদের শেষ বিদায়ে স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন।

নিহত কিশোররা হলেন- ওমর মোহাম্মদ নাজি আল-নাসান (১৯) ও খলিল রাসেম খলিল শাহাদা (১৬)।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে রামাল্লার কাছে আল-মুগাইয়ির গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে তারা নিহত হন।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের একটি দল গ্রামে প্রবেশ করার পর স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বসতিস্থাপনকারীরা একটি বাড়ি থেকে ভেড়া নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরে ইসরায়েলি সেনারাও ঘটনাস্থলে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গুলিতে দুই কিশোরই আহত হয়েছিলেন। তাদের একজনের ঘাড়ে এবং অন্যজনের পিঠে গুলি লাগে। পরে তাদের রামাল্লার দুটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

তবে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তাদের ভাষ্য, পুলিশ ও এক ইসরায়েলি বেসামরিক ব্যক্তিকে গবাদিপশু উদ্ধারে সহায়তা করতে সেনারা আল-মুগাইয়িরে প্রবেশ করে। সেখানে পাথর ও কংক্রিটের টুকরো নিক্ষেপের মাধ্যমে ‘সহিংস গোলযোগ’ সৃষ্টি করা হলে বাহিনী ‘মূল উসকানিদাতাদের’ লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

রয়টার্সের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, জানাজার সময় স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দুই কিশোরের মরদেহ বহন করে নিয়ে যান। ধর্মীয় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে তাদের শেষ বিদায় জানানো হয়।

আল-মুগাইয়িরসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বেড়েছে। এর মধ্যে দুই কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় অঞ্চলটির উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে।

এমইউ
আরও পড়ুন