ইসরায়েলি আগ্রাসন

ফিলিস্তিনি কৃষকদের টিকে থাকার লড়াই

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রনে দখলদার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অনবরত হুমকি ও সহিংসতার মুখোমুখি হয়েও নিজের ভিটেমাটি এবং কৃষিজমি আঁকড়ে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনি কৃষকরা। হেব্রনের উত্তরের বাইত উম্মার শহরের ৫৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নারী থিবা আল-সাবা তেমনই একজন, যিনি রাত-দিন নিজের আঙুর বাগান এবং গৃহপালিত পশু রক্ষায় পাহাড়া দিয়ে যাচ্ছেন।

নিকটবর্তী পাহাড়ে ইসরায়েলিরা নতুন নতুন বেআইনি বসতি স্থাপন করার পর থেকেই ফিলিস্তিনি কৃষকদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বসতি স্থাপনকারীরা পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনিদের চাষাবাজ করা জমিতে তাদের গবাদিপশু ছেড়ে দিয়ে ফসল মাড়িয়ে নষ্ট করছে। বাধা দিতে গেলেই সশস্ত্র আক্রমণ চালাচ্ছে। জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে দৃঢ়চেতা থিবা আল-সাবা বলেন, এই মাটি আমাকে ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছে। নিজের ঘাম ও সন্তানদের কষ্টের ফসল আমি কিছুতেই অন্যদের হাতে তুলে দেব না।

একই এলাকায় বসবাসকারী ৫৯ বছর বয়সী আনোয়ার সাবারনেহ জানান, ইসরায়েলি বাহিনী এখন নিজ জমিতে কাজ করার জন্যও তাদের কাছ থেকে অনুমতিপত্র বা পারমিট দাবি করছে। এমনকি গবাদিপশু বাইরে চরাতে নিয়ে গেলে তা ছিনতাই করছে বসতি স্থাপনকারীরা। প্রতিবাদ করতে গেলে ফিলিস্তিনি যুবকদের ওপর নির্যাতন ও গ্রেফতার চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা।

'কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন'-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম অর্ধেকের মধ্যেই পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর অন্তত ১১,০৭৪টি সামরিক ও বসতি স্থাপনকারী হামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ক্রমাগত আক্রমণের কারণে অনেক ফিলিস্তিনি চাষী টানা চার মৌসুম ধরে তাদের আঙুর, জলপাই ও পেয়ারা ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। কিন্তু এত প্রতিকূলতার পরও পরিবার ও মাটির ঐতিহ্য রক্ষায় ফিলিস্তিনি নারীরা প্রতিরোধের সামনের সারিতে থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমইউ
আরও পড়ুন