গাজায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর নামে গণহত্যা আড়ালের চেষ্টায় ইসরায়েল!

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬ এএম

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল যেভাবে বিশাল আকারের ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ করছে, তাতে দেশটির দ্বারা সংঘটিত ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধের আলামত ও প্রমাণ চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সম্পর্কিত জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফ্রান্সেসকা আলবানিজ গত সোমবার জোর দিয়ে বলেন, গাজার এই ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজে যেসব রাষ্ট্র বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে, গণহত্যার আলামত ধ্বংসের অপরাধে তারা নিজেরাও আন্তর্জাতিক ফৌজদারি দায়বদ্ধতা ও আইনি বিচারের মুখোমুখি হতে পারে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) দুই বছর আগে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছিল যেন গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রাসঙ্গিক কোনো তথ্য বা প্রমাণ ধ্বংস করা না হয়।

আলবানিজ স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাজার পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া তার অতীত ইতিহাস মুছে ফেলা কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রমাণ ধ্বংসের বিনিময়ে বাস্তবায়িত হতে পারে না। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত আগস্টে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজার বিভিন্ন স্থান, এমনকি সমাধিক্ষেত্র ও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া মানুষের মরদেহের অবস্থানস্থলগুলো থেকে লাখ লাখ টন কংক্রিট ও ধ্বংসাবশেষ গুঁড়িয়ে এক জায়গায় মিশিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিশাল অভিযান চালায়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা 'ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর'-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও বলা হয়, গাজার এই ধ্বংসস্তূপ অপসারণ আদতে ইসরায়েলের চালানো গণহত্যার আলামত মোছা ও ওই এলাকার জনসংখ্যাগত কাঠামো বদলে দেওয়ার এক পরিকল্পিত চক্রান্ত হতে পারে।

বর্তমানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ৮,০০০-এরও বেশি মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে আছে। বহু পরিবার আজও নিখোঁজ স্বজনদের অবশিষ্ট অংশের সন্ধানে দিন কাটাচ্ছে। তবে মরদেহ উদ্ধার কাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি ভারী যন্ত্রপাতি ও ফরেনসিক সামগ্রী গাজায় প্রবেশ করতে না দিয়ে ক্রমাগত বাধা দিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

এমন পরিস্থিতির মাঝেই গত রোববার উত্তর গাজার গাজা সিটিতে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উদ্ধার হওয়া ৬০টি শিশুসহ প্রায় ১০০ জন ফিলিস্তিনির খণ্ডবিখণ্ড মরদেহের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেছে স্বজনরা।

গাজার সিভিল ডিফেন্স সার্ভিসের প্রধান রায়েদ আল-দাহশান আল জাজিরাকে জানান, উপযুক্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধার সরঞ্জাম পাওয়া গেলে মাত্র ৯০ দিনের মধ্যেই সব মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব। কিন্তু বর্তমান সরঞ্জামহীন পরিস্থিতিতে এই কাজ শেষ করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমইউ
আরও পড়ুন