যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন, যেখানে কানাডা, মেক্সিকো, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, কিউবা, গুয়াতেমালাসহ মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। মানচিত্রটিতে এসব অঞ্চলের ওপর মার্কিন পতাকা বসানো এবং পুরো ভূখণ্ডকে ‘United States of America’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ট্রাম্প ৭ সেপ্টেম্বর লেবার ডে উপলক্ষে ধারাবাহিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের মধ্যে এই মানচিত্রটি প্রকাশ করেন। তবে পোস্টটির সঙ্গে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি। ফলে মানচিত্রটি নিছক রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, নাকি তার সম্প্রসারণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের পোস্টে সবচেয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী থরগেরদুর ক্যাটরিন গুনারসদোত্তির মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিলি লংকে তলব করেন। আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকাশিত ছবিটিকে তারা ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’ বলে মনে করে। মেক্সিকো থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম বলেছেন, মেক্সিকো কোনো দেশের উপনিবেশ বা প্রটেক্টরেট ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
ট্রাম্পের মানচিত্র পোস্টের পেছনে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার দীর্ঘদিনের আগ্রহও আলোচনায় এসেছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তার যুক্তি, আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতারা বারবার স্পষ্ট করেছেন যে- গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার গ্রিনল্যান্ডের জনগণ ও ডেনমার্কের। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনও সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড সফরে গিয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের জনগণই নির্ধারণ করবে।
কানাডাকেও যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানো ট্রাম্পের মানচিত্র নতুন করে তার পুরোনো মন্তব্য সামনে এনেছে। ট্রাম্প এর আগে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব নিয়ে বারবার মন্তব্য করেছেন। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনাও তীব্র হয়েছে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং কানাডার সার্বভৌমত্ব নিয়ে তার মন্তব্যের কারণে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের সর্বশেষ মানচিত্র পোস্টটি তার সাম্প্রতিক ভূগোল ও নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতার সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে ‘New America’ করার ধারণার পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘Gulf of America’ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তার প্রশাসন। নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম অবশ্য ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, অঙ্গরাজ্যটির নাম নিয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই।
ট্রাম্পের পোস্টের তাৎপর্য নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে- এটি কি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি রাজনৈতিক বার্তা, নাকি তার বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক চিন্তার প্রতিফলন? বাস্তবে কোনো বিদেশি দেশ বা ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে দেওয়ার ক্ষমতা এমন একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের নেই। কিন্তু কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, মেক্সিকো ও অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে মানচিত্রটির মিল থাকায় এটি কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে।
বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ফলে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের আগ্রহ কেবল ভূখণ্ডগত আকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; এর সঙ্গে খনিজ সম্পদ, সামরিক অবস্থান, সমুদ্রপথ ও আর্কটিক নিরাপত্তার মতো বৃহত্তর স্বার্থও জড়িত।
আগ্রাসীদের অনুতপ্ত না করা পর্যন্ত প্রতিরোধ চলবে: পেজেশকিয়ান
তিন বছরে ১,৩৭০ চিকিৎসক হারিয়েছে ইসরায়েল
সৌদিতে হুথিদের হামলাকে `বিশ্বাসঘাতক' বললেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
হুথিদের সঙ্গে কূটনীতির পথ এখনো বন্ধ হয়নি: প্রিন্স ফয়সাল