অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ- ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব সদস্যরাষ্ট্র এ বিষয়ে একমত বলে জানিয়েছেন ইইউর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কাজা কালাস।
ব্রিটেনসহ ১২টি দেশ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত বা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগে সমর্থন জানানোর পর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কালাস এ কথা বলেন। ১২টি দেশের মধ্যে ইইউর সদস্য ব্রিটেন, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেনসহ কয়েকটি দেশ রয়েছে।
কালাস বলেন, সব ইইউ সদস্যরাষ্ট্র একমত যে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের বসতি সম্প্রসারণ একটি কার্যকর দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
ইইউর অবস্থানটি নতুন নয়। গত আগস্টেও ইইউ স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি- বিশেষ করে বিতর্কিত E1 এলাকায় পরিকল্পিত সম্প্রসারণ- আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ইইউর মতে, E1 প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং পূর্ব জেরুজালেম বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও আরও সংকুচিত হবে।
সম্প্রতি ব্রিটেন পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে। ফ্রান্স ও কানাডাও একই ধরনের পদক্ষেপের পথে এগোচ্ছে। মোট ১২টি দেশ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ, সমর্থন অথবা তা বিবেচনার কথা জানিয়েছে।
তবে ইইউর সব সদস্যরাষ্ট্র বসতিগুলোর অবৈধতার বিষয়ে একমত হলেও, বসতিগুলোর বিরুদ্ধে অভিন্ন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপে এখনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ফলে কয়েকটি দেশ জাতীয় পর্যায়ে আলাদা পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা ইইউর অভিন্ন সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে।
কালাস বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে ইইউ এখনো সবচেয়ে বড় দাতা। একই সঙ্গে ইইউ একটি “সমন্বিত, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি” প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই শান্তির ভিত্তি হবে দুই-রাষ্ট্র সমাধান—যেখানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন স্বীকৃত ও নিরাপদ সীমান্তের মধ্যে পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে।
এদিকে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের পাশাপাশি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত কিছু অবৈধ ফাঁড়ি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা বেড়েছে।
ইইউর অবস্থান এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর পৃথক বাণিজ্যিক পদক্ষেপ ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ব্রিটেন ও ইউরোপের এই পথ অনুসরণ করেনি। ফলে ইসরায়েলি বসতি ইস্যুতে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যেও নীতিগত দূরত্ব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি ও দুই যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলা করলো ইরান
কর্মী কমিয়ে এআইয়ে ঝুঁকছে শপিফাই, কতটা সফল কৌশল?