চট্টগ্রামের ষোলশহরে ট্রেনে কাটা পড়ে গুরুতর আহত ১০ বছরের শিশু রাহাতও মারা গেছে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ইলেকট্রিক মিস্ত্রি দেলোয়ার হোসেন মিন্টু।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চমেক হাসপাতালের অর্থপেডিক ওয়ার্ডে রাহাতের মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া শিশু রাহাত পাঁচলাইশ থানার ২ নম্বর গেট এলাকার মো. ফারুকের ছেলে।
চমেক হাসপাতালের অর্থপেডিক ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন রাহাতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে, দুপুর আড়াইটার দিকে ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং এলাকায় চশমা খালের ওপরের একটি ছোট রেলসেতুতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। জুমার নামাজ শেষে ১০ বছর বয়সি রাহাত ও তার ভাই ওই রেলসেতু দিয়ে হাঁটছিল। এ সময় একটি ট্রেন আসতে দেখে স্থানীয় দুই ব্যক্তি তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যান। তাদের একজন রাহাতের ভাইকে নিয়ে রেলসেতু থেকে নিচে লাফ দেন। অপর ব্যক্তি রাহাতকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এর আগেই ট্রেনের ধাক্কায় রাহাতের একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দুই পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

রাহাতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা দেলোয়ার হোসেন মিন্টু তাকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হলেও নিজে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে গুরুতর আহত রাহাতকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েক ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন দে জানান, রেললাইনে থাকা শিশুদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়েই দেলোয়ার হোসেন মিন্টু নামের ওই ব্যক্তি নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সড়কে নবজাতক ফেলে পালানোর চেষ্টা
নিজের জীবন দিয়ে বাঁচালেন শিশুর প্রাণ