ফুলবাড়ীতে পাটের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকরা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারেও মিলছে সন্তোষজনক দাম। উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হলেও ভালো দামে পাট বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। এতে গত কয়েক বছরের লোকসানের চাপ কাটিয়ে কৃষকদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।

উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের হরহরিয়ারপাড়া ও খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মোক্তারপুর গ্রামের কয়েকজন পাটচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর এ সময়ে প্রতি মণ পাট ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে গিয়ে অনেক কৃষক লোকসানে পড়েছিলেন। তবে চলতি মৌসুমে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতি মণে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন কৃষকেরা।

উপজেলার আটপুকুরহাটসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, রিকশাভ্যান ও ইজিবাইকে করে কৃষকেরা পাট নিয়ে আসছেন। সেখানে পাটের মান যাচাই করে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দরদাম চলছে। ভালো দাম পাওয়ায় বিক্রেতাদের মধ্যেও সন্তুষ্টি দেখা গেছে।

খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মোক্তারপুর গ্রামের এক কৃষক এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করে প্রায় ৮ মণ পাট পেয়েছেন। এতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার টাকা। প্রতি মণ ৩ হাজার ৯০০ টাকা দরে ৩১ হাজার ২০০ টাকায় পাট বিক্রি করে তাঁর লাভ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ২০০ টাকা।

একই গ্রামের কৃষক মঈনুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর ধরে পাটের ফলন আশানুরূপ না হওয়ায় চাষ করে লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে ফলন ও দাম দুটিই ভালো পেয়েছেন তিনি। এক বিঘা জমিতে তোষা জাতের পাট চাষ করে প্রায় ১৯ হাজার টাকা লাভ করেছেন বলে জানান তিনি।

কৃষকেরা বলছেন, এবার পাট থেকে পাওয়া লাভ আলু চাষের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে সহায়তা করবে। দৌলতপুর ইউনিয়নের হরহরিয়ারপাড়া গ্রামের কৃষক মতিউর রহমান জানান, আলু চাষে লোকসান হওয়ায় তিনি ২০ শতক জমিতে পাট আবাদ করেছিলেন। ভালো দাম পাওয়ায় পাট থেকে পাওয়া আয় দিয়ে আলু চাষের ক্ষতির একটি অংশ কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন তিনি।

পাটের ভালো বাজারদরের বিষয়টি নিশ্চিত করে আড়তদার শান্ত কুন্ডু বলেন, বর্তমানে বাজারে পাটের চাহিদা রয়েছে। মান অনুযায়ী প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে আড়তে কেনাবেচা হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে চাষিরা ভালো লাভ করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন জানান, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ীতে ৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সমপরিমাণ জমিতেই আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১১ মেট্রিক টন বা ৬০৮ বেল পাট।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে। কাটা জমিগুলো থেকে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি উৎপাদন পাওয়া গেছে। বাকি ১০ শতাংশ জমির পাট কাটার কাজও চলছে।

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, চলতি মৌসুমে পাট চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি পাট জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও কৃষকদের তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। ভালো ফলনের সঙ্গে বাজারে সন্তোষজনক দাম থাকায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে উপজেলায় পাটের আবাদ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

এম.সি. এইচ
আরও পড়ুন