ফুলবাড়ীতে ভালো ফলনেও আউশে লোকসানের শঙ্কা কৃষকের

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু বাজারে ধানের দাম কম। উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রিমূল্য কম থাকায় আউশ চাষ করে এবার লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকেরা। মাঠে ভালো ফলনের পরও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তাদের মুখের হাসি ম্লান হয়ে গেছে।

কৃষকেরা বলছেন, একদিকে সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক, জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, অন্যদিকে কমেছে ধানের বাজারদর। এর সঙ্গে রয়েছে ঋণের কিস্তি, পারিবারিক ব্যয় এবং পরবর্তী আমন মৌসুমের প্রস্তুতি। ফলে ধান ঘরে উঠলেও বিক্রির পর প্রত্যাশিত আয় হাতে থাকছে না।

উপজেলার কয়েকটি ধানের হাট ঘুরে দেখা গেছে, জিরোশাইল, কাটারি ও বিআর-২৮ জাতের আউশ ধান বর্তমানে প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার জাতভেদে প্রতি মণ ধানের দাম প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কমেছে।

কৃষকদের হিসাবে, এক বিঘা জমিতে এবার গড়ে ২০ থেকে ২২ মণ ধান উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমান বাজারদরে প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা হিসেবে বিক্রি করলে এক বিঘা জমি থেকে কৃষকের আয় দাঁড়ায় প্রায় ১৬ থেকে ১৯ হাজার টাকা। এতে ভালো ফলন পাওয়ার পরও অনেক কৃষকের উৎপাদন খরচই ঠিকমতো উঠছে না।

উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক মহিদুল ইসলাম মেলাবাড়ী হাটে ধান বিক্রি করতে এসে বলেন, ধানের দাম এত কম যে এ দামে বিক্রি করে চাষের খরচ তোলা কঠিন। কিন্তু সংসারের খরচ মেটাতে হওয়ায় কম দামেই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

উপজেলা সদরের ধানের হাটে ১২ মণ জিরোশাইল ধান নিয়ে এসেছিলেন মহিষবাতান গ্রামের কৃষক জ্যোতিশ চন্দ্র। তিনি বলেন, প্রথমে প্রতি মণ ৮০০ টাকা দরের কথা বলা হচ্ছিল। ধান বাজারে আনতে পরিবহন খরচ হয়েছে। এখন বিক্রি না করে বাড়িতে ফিরিয়ে নিলে আবার পরিবহন খরচ গুনতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে ১০ মণ ধান প্রতি মণ ৮৯০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তাঁর দাবি, গত বছর একই ধরনের আউশ ধান ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছিলেন।

পূর্বনারায়ণপুর গ্রামের সামুয়েল হেম্ব্রম চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আউশ চাষ করেছেন। চাষের খরচ মেটাতে সমিতি থেকে ঋণও নিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ধানের দাম কমে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ ও সংসারের ব্যয় মেটানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

ফুলবাড়ী সদরের ধান আড়তদার সোহাগ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাজারে ধানের দর নিম্নমুখী। গত দেড় সপ্তাহে প্রতি মণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আউশ ধান বাজারে ওঠার পর থেকেই ধানের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন জানান, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ীতে ২৩০ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬৭ মেট্রিক টন। আউশের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রান্তিক কৃষকদের বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি চাষাবাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনুকূল পরিবেশ ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আউশের আবাদে কৃষকদের আগ্রহ রয়েছে। আগামী মৌসুমে উপজেলায় আউশের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এম.সি. এইচ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত