ইতালির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরকা ও নিকাব পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একইসঙ্গে তিনি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেঁধে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। আগামী সাধারণ নির্বাচনে দেশটিতে অভিবাসন ইস্যুটি মূল আলোচনায় উঠে আসছে।
রোমে 'ব্রাদার্স অব ইতালি' দলের যুব সম্মেলনে মেলোনি এসব কথা বলেন। যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্থানীয় ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হবেন, তাদের জন্য ইতালীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেন তিনি। তার বক্তব্য উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।
প্রধানমন্ত্রী মেলোনি স্পষ্ট করেন, ইতালিতে ভবিষ্যৎ গড়তে চাইলে তাদের ভাষা শেখা, সংস্কৃতি বোঝা ও নিয়ম মানা জরুরি। অভিবাসীদের সম্মানের সাথে গ্রহণ করার এটাই একমাত্র উপায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই নিয়মগুলো আইন হিসেবে পাস হতে সংসদীয় অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মেলোনির সরকার ইতালিতে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী শাসন পরিচালনা করছে। তবে ২০২৭ সালের নির্বাচনে আরও চরম ডানপন্থি 'ন্যাশনাল ফিউচার' দল থেকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আভাস মিলছে। গত জুলাইতেই এই দলটি স্কুলে বোরকা বন্ধের কঠোর দাবি তুলেছিল।
ইতালিতে এতদিন বোরকা ও নিকাব পরা সরাসরি নিষিদ্ধ ছিল না। তবে ১৯৭৫ সালের এক আইনে পরিচয় গোপন রাখার পোশাক পরায় বিধিনিষেধ ছিল। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে শর্তসাপেক্ষে মুখ ঢেকে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হলেও বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল 'লীগ' এটি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব এনেছে।
বর্তমানে ইতালির স্কুলগুলোতে গড়ে ১২ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। আইনে প্রতি ক্লাসে ৩০ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী রাখার নিয়ম ইতিমধ্যেই বিদ্যমান রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন কী পরিবর্তন আসছে, সে সম্পর্কে মেলোনি এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি।
আম্মারের নেতৃত্বে রাজশাহী রেলস্টেশনে তাণ্ডব
সেনাপ্রধানের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ