নব্বইয়ের দশকে রাশিয়ার সঙ্গে দুটি ভয়াবহ যুদ্ধে চেচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনি প্রায় ধুলোয় মিশে যায়। চারদিকে কেবল রক্তপাত, হাহাকার আর ধ্বংসের চিহ্ন দেখে ক্লান্ত মানুষ ব্যাকুলভাবে একটু শান্তির খোঁজ করছিল।
ঠিক সেই সংকটকালে চেচনিয়ার শাসনের বাগডোর হাতে নেন রমজান কাদিরভ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন এক চেচনিয়া গড়ে তোলার বার্তা নিয়ে শুরু হয় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা।
ক্রেমলিন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে কাদিরভ ছিলেন অন্যতম নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক চালিকাশক্তি। নিজেকে পুতিনের অনুগত সৈনিক দাবি করায় প্রতিবছর মস্কো থেকে বিপুল সরকারি অনুদান পেতে শুরু করে চেচনিয়া।
সেই অর্থে ধুলোয় মলিন গ্রোজনি দ্রুত বদলে গিয়ে এক ঝলমলে আধুনিক নগরীতে পরিণত হয়। গড়ে ওঠে ইউরোপের বৃহত্তম মসজিদসহ দৃষ্টিনন্দন সড়ক ও প্রাসাদ, যা যুদ্ধক্লান্ত মানুষের চোখে তাকে শান্তির দূত হিসেবে উপস্থাপন করে।
কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, ধর্মীয় ও সুফিবাদী ঐতিহ্যকে পুঁজি করেও নিজের অবস্থান শক্ত করেন কাদিরভ। মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করা, নারীদের পোশাকে বিধিনিষেধ এবং কঠোর ইসলামী মূল্যবোধ চালুর মাধ্যমে তিনি সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন।
একই সঙ্গে তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তৈরি রাখা হয় ‘কাদিরোভিতসি’ নামে অত্যন্ত অনুগত ও শক্তিশালী একটি নিজস্ব বাহিনী। এই বাহিনী পুরো অঞ্চলে কাদিরভের একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে মূল ভূমিকা পালন করে।
তবে এই দৃশ্যমান উন্নয়ন ও জনপ্রিয়তার আড়ালে এক থমথমে ভীতি কাজ করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, চেচনিয়ায় রাজনৈতিক বিরোধিতা কিংবা বাকস্বাধীনতার কোনো স্থান নেই।
সংবাদমাধ্যম ও টিভিতে সার্বক্ষণিক কাদিরভের প্রশংসা প্রচার করা হয় এবং কঠোর সেন্সরশিপ বজায় রাখা হয়। ফলে চেচেনদের এই সমর্থন কতটা স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা আর কতটা প্রাণ বাঁচানোর ভয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
সূত্র: রয়টার্স
নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতা বাতিলের দাবি এরদোগানের
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ‘নিয়ন্ত্রণহীন’
আগের মতোই দেশে খুন-সন্ত্রাস চলছে: চরমোনাই পীর