যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত তিন ঘণ্টার বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধ কিংবা বড় কোনো সমঝোতার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার অংশ নেন। ইরানের পক্ষ থেকে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
প্রথমদিকে বৈঠকটির বিষয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে এমন ধারণা তৈরি হয় যে তিনি নিজেও আলোচনায় ছিলেন। পরে হোয়াইট হাউস পরিষ্কার করে জানায়, ট্রাম্প বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না; তার প্রতিনিধিরাই ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প এটিকে ‘খুব ভালো’ ও ‘ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, খুব শিগগিরই আরেকটি বৈঠক হতে পারে। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোতে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
আলোচনার কেন্দ্রে হরমুজ
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রশ্ন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরাগচি হরমুজ খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তেহরানের শর্তগুলো মার্কিন প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন।
এসব শর্তের মধ্যে ছিল মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ বা স্থগিত থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। তাই এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর আগে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানি বন্দরের ওপর অবরোধ তুলে নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই হরমুজ খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত থাকতে পারে। তবে এটি ছিল ইরানের পক্ষের প্রস্তাব; এর বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
বড় অগ্রগতি না হলেও যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ
নিউইয়র্কের বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ কয়েক মাসের সামরিক সংঘাত ও তীব্র বাকযুদ্ধের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আবারও হয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে, মার্কিন পক্ষের অনুরোধেই আরাগচি বৈঠকে সম্মত হন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বৈঠকটিকে ভবিষ্যৎ সমঝোতার সম্ভাব্য পথ হিসেবে তুলে ধরছে।
তবে আলোচনার পরিবেশ এখনো জটিল। ওয়াশিংটন একদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার কথা বলছে। তেহরানও আলোচনার বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও নিজেদের শর্তগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ফলে নিউইয়র্কের বৈঠককে তাৎক্ষণিক সমঝোতার পরিবর্তে নতুন করে আলোচনার দরজা খোলার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী বৈঠকে হরমুজ, অবরোধ, ইরানের সম্পদ এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্তগুলোতে কতটা সমঝোতা তৈরি হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই আরেক দফা বৈঠক হতে পারে। ফলে নিউইয়র্কে শুরু হওয়া এই যোগাযোগ শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ আলোচনায় রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন নজরে রয়েছে।
রাজধানীসহ যেসব এলাকায় বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা
জাতিসংঘে ভাষণে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের