ইরান যুদ্ধে ১৯ মার্কিন সেনা নিহত

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনাসদস্যের নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিয়াঙ্কা সি. উইলকারসন।

তবে তাঁর মৃত্যু যুদ্ধক্ষেত্রে হামলায় নয়; সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি অ-যুদ্ধজনিত ঘটনা। ভার্জিনিয়ার নরফোকের বাসিন্দা উইলকারসন গত ১৮ সেপ্টেম্বর মারা যান। মৃত্যুর পর তাঁকে মেজর পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন।

উইলকারসন কাতারের দোহায় অবস্থান করে বিদেশি সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার শ’ এয়ার ফোর্স বেসে অবস্থিত US Army Central and Third Army-এর সদর দপ্তরের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের উদ্দেশে যাওয়া একটি সামরিক ফ্লাইটে তিনি চিকিৎসাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনাটিকে ‘non-combat-related incident’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পেন্টাগনের Defense Casualty Analysis System (DCAS)-এ তাঁর মৃত্যুকে ‘non-hostile’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে মৃত্যুর কারণ বর্তমানে ‘undetermined’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। সেনাবাহিনীর তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ চূড়ান্ত নয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, Operation Epic Fury শেষ হওয়ার পর ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন অঞ্চলে সংঘটিত সামরিক মৃত্যুগুলো ‘Overseas Operations’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে। উইলকারসনের আগে এই বিভাগে আরও চার মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে তিনজন জর্ডানে এবং একজন ইরাকে মারা যান।

ফলে হিসাবটি দাঁড়াচ্ছে—Operation Epic Fury বিভাগে ১৪ জন এবং Overseas Operations বিভাগে ৫ জন; মোট ১৯ জন।

সম্প্রতি The Washington Post জানিয়েছে, কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সদস্যদের মৃত্যুর সংখ্যা পেন্টাগনের প্রকাশ্য তালিকার চেয়ে বেশি। পাঁচ কর্মকর্তা অন্তত ২২ জনের মৃত্যুর কথা বলেছেন, আর আরেক কর্মকর্তা সংখ্যাটি ২৩ বলে জানিয়েছেন।

তবে এসব অতিরিক্ত মৃত্যুর সবগুলো সরাসরি ইরান যুদ্ধের কারণে হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মৃত্যু সংঘাতপূর্ণ সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও সরাসরি যুদ্ধের ঘটনা নাও হতে পারে।

অর্থাৎ বর্তমানে দুটি পৃথক হিসাব সামনে রয়েছে—পেন্টাগনের প্রকাশ্য হিসাবে ১৯ জন, আর কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার দেওয়া অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, অস্ত্রের ব্যবহার এবং সামরিক সরঞ্জামের ওপরও সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। ফলে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অভিযান পরিচালনার ব্যয় নিয়েও ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছে।

ক্যাপ্টেন বিয়াঙ্কা উইলকারসনের মৃত্যু এই বৃহত্তর সামরিক বাস্তবতার আরেকটি দিক সামনে এনেছে—যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি সংঘর্ষ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মোতায়েনের মধ্যে থাকা সেনাসদস্যরা নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে থাকেন।

তবে তাঁর মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পরিষ্কার হবে। আপাতত মার্কিন সেনাবাহিনীর সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন বিয়াঙ্কা সি. উইলকারসন ইরান যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট বিদেশি অভিযানে দায়িত্ব পালনকালে অ-যুদ্ধজনিত ঘটনায় মারা যাওয়া ১৯তম মার্কিন সামরিক সদস্য।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন