ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি নিয়ে কার্নির মন্তব্যের প্রতিবাদ বাঘাইয়ের

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ এএম

ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ বা ‘annihilate’ করার হুমকিকে ‘যুদ্ধের ভাষা’ হিসেবে বর্ণনা করায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসামাইল বাঘাই বলেছেন, কার্নি মার্কিন হুমকিকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে সেটিকে কেবল ‘যুদ্ধের ভাষা’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই কার্নির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, কার্নির বুঝতে হবে বাস্তবতা থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে আশ্রয় নেওয়া এবং বাস্তবতা এড়িয়ে চলার অভিযোগও উঠে আসে।

বাঘাই আরও বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘দীর্ঘ ছায়ায়’ আশ্রয় নিয়েছে, তারা একসময় বুঝতে পারবে যে বাস্তবতা থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া বা নিজেদের মর্যাদা বিসর্জন দিয়ে কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা পাওয়া যায় না।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কার্নিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক বক্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। ট্রাম্প ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ভাষণে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দেশটিকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার কথা বলেন।

জবাবে কার্নি বলেন, বর্তমানে একটি যুদ্ধ চলছে এবং ট্রাম্প যে ভাষা ব্যবহার করছেন, সেটি ‘যুদ্ধের ভাষা’। কার্নির মন্তব্যটি মূলত ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রকৃতি নিয়ে ছিল; তিনি ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সামগ্রিক কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকেও কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন কোনো হামলা হলে আগের চেয়ে আরও কঠোর ও অনির্দেশ্য জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

কার্নির মন্তব্যের জবাবে বাঘাই বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও প্রভাবের ওপর নির্ভর করেছে, তারা শেষ পর্যন্ত বাস্তবতার মুখোমুখি হবে।

তিনি আরও বলেন, ইরানকে একসময় বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গে মিলে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা দেশটির প্রতিরোধের অবস্থানকে শেষ করতে পারেনি এমন বক্তব্যই তুলে ধরেন ইরানের এই মুখপাত্র।

বাঘাইয়ের বক্তব্যে সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা না থাকলেও ভাষাটি ছিল অত্যন্ত কঠোর। তাঁর মন্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের হুমকি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সেই হুমকির ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা।

২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক রিপাবলিককে ‘নিশ্চিহ্ন’ করবে এ সিদ্ধান্ত তার সামনে রয়েছে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ এবং যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

তবে একই সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের কয়েক ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই বৈঠককে ‘very good’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন এবং কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।

ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক চাপ কমানো এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়ার মতো বিষয়গুলো আলোচনার পূর্বশর্তের মধ্যে রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একদিকে কঠোর সামরিক ও রাজনৈতিক বক্তব্য চলছে, অন্যদিকে আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ‘নিশ্চিহ্ন’ হুমকির পাশাপাশি ইরানের পক্ষ থেকেও ‘crushing’ বা আরও কঠোর জবাবের সতর্কবার্তা এসেছে। একই সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে।

ফলে কার্নির মন্তব্য এবং বাঘাইয়ের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা পাশাপাশি চলছে। হুমকি ও পাল্টা হুমকির ভাষা সংঘাতের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুললেও, নিউইয়র্কে সাম্প্রতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের একটি চ্যানেল এখনো সক্রিয় রয়েছে।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত