ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ইতালীয় ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই—এমন শিক্ষার্থীদের একটি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ রাখার বিধান করেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মন্ত্রিসভা এই বিষয়ে একটি ডিক্রি-ল’ অনুমোদন করে। এর আগে রোববার জাতীয়তাবাদী রক্ষণশীল দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার এক অনুষ্ঠানে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর কথা তুলে ধরেছিলেন মেলোনি।
নতুন বিধান অনুযায়ী, স্কুলে মুখ ঢেকে রাখা বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ হবে। একই সঙ্গে ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ইতালীয় ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই—এমন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্কুলে বণ্টনের মাধ্যমে এ সীমা বাস্তবায়নে কাজ করবে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো কোনো স্কুলকে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সরকারের এই ডিক্রি-ল’ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এটিকে আইনে পরিণত করতে ৬০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লারও এতে অনুমোদনের ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষা গ্রহণে নতুন বিধান যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করে, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক অবস্থান জানিয়েছেন।
মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং স্কুলে বোরকা-নিকাব বন্ধের পদক্ষেপ বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, এসব পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের একীভূত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার নীতির অংশ।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন বিধানের লক্ষ্য হলো স্কুলে ভাষাগতভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং তাদের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আরও ভালোভাবে যুক্ত করা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ইতালির স্কুলগুলোতে অ-ইতালীয় নাগরিক শিক্ষার্থীর হার ছিল ১১ দশমিক ২ শতাংশ।
তবে নতুন বিধান নিয়ে ইতালিতে বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও শিক্ষক সংগঠনের একাংশ এর সমালোচনা করেছে। স্কুল পরিচালকদের পক্ষ থেকেও অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এমন এলাকায় ৩০ শতাংশ সীমা বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জিউসেপ্পে ভালদিতারা জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে যেসব স্কুলের অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন হবে, তাদের ভাষা শেখানোর জন্য বাড়তি অর্থ ও সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর হিসাবে, দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার শ্রেণিকক্ষ এ ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
বাংলাদেশকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট
জাতিসংঘের লিগ্যাল অফিসারের কাজ কী, বেতন কত?