২৪ কোটি টাকার সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নারায়ণহাট-মীরসরাই বিকল্প সড়কের ফটিকছড়ি অংশে তিনটি সেতু নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুর কাজে নির্ধারিত মানের বালুর পরিবর্তে মাটিযুক্ত স্থানীয় বালু ও মরিচা ধরা রড ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাতের বেলায় পাইলিং ও ঢালাইয়ের কাজ করায় নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার অংশের মধ্যে পাশাপাশি তিনটি সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও এসব সেতুর পাইলিং ও ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে কাজ করায় নির্মাণসামগ্রীর মান ও কাজের বিভিন্ন ধাপ যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নারায়ণহাট-মীরসরাই বিকল্প সড়কের ফটিকছড়ি অংশে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের তিনটি সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্স। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

কাজের মান যাচাই ও তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সরেজমিনে দীর্ঘ সময় সেতু এলাকায় পাওয়া যায়নি। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি পরিদর্শন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর ঢালাইয়ের কাজে উন্নতমানের সিলেটি বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে মাটিযুক্ত স্থানীয় বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু রডেও মরিচা ধরেছে বলে তারা জানান। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে নির্মাণাধীন সেতুগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজে মান নিশ্চিত না হলে এত টাকা খরচ করে কী লাভ? পাহাড়ি ঢলের সময় নিম্নমানের নির্মাণকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরেক বাসিন্দা আবসার উদ্দিন বলেন, কাগজে-কলমে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাতে পাইলিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। এতে সেতুগুলোর ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের প্রকৌশলী আতিকুজ্জামান বলেন, সিলেটি বালু সরবরাহে দেরি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে স্থানীয় বালু ব্যবহার করতে হচ্ছে। আর বেশির ভাগ সময় মেশিন নষ্ট থাকায় কাজ শেষ করতে রাত হয়ে যায়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আরেক প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ছিদ্দিক জানান, পাইলিংয়ের কয়েকটি স্থানে কিছুটা ভুল হয়েছে। বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সীতাকুণ্ড) উপসহকারী প্রকৌশলী দীপন চাকমা বলেন, রাতে ঢালাইয়ের কাজ করার বিষয়টি সত্য। নিম্নমানের বালু ব্যবহারের তথ্যও তাঁরা পেয়েছেন। বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে।

 

এমসিএইচ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত