ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং জি-সেভেন (G7) ভুক্ত দেশগুলোর জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার ঘোষণার ফলে সোমবার (৫ অক্টোবর) তেলের বাজারে এই দরপতন দেখা গেছে।
এদিন ব্যারেলপ্রতি ৬৬ সেন্ট বা ০.৬৫ শতাংশ কমে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস দাঁড়িয়েছে ১০১.৫৯ ডলারে। অন্যদিকে মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৯৫ সেন্ট বা ০.৬৮ শতাংশ কমে ১.০৩ ডলারে নেমে এসেছে।
এর আগে গত শুক্রবার জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে এই দেশগুলো জ্বালানি রপ্তানিতে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যার ফলে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের অর্জন করা বেশিরভাগ লাভই মুছে গেছে এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১.৬ শতাংশ কমেছে।
শিপিং ডেটা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা সত্ত্বেও সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের সাতদিনের মধ্যে চারদিনই মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রাক-যুদ্ধ স্তরের উপরে উঠেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, "কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার জি-সেভেনের সিদ্ধান্ত বাজারে তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি রপ্তানিও ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে, যদিও এই তেলগুলো তুলনামূলক বেশি খরচে ও কম কার্যকর রুট দিয়ে বহন করা হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে না গেলেও এই দুইয়ের প্রভাবেই বর্তমানে তেলের বাজার কিছুটা শান্ত রয়েছে।"
এদিকে ইয়েমেনে গত ১২ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন প্রায় ৫০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে সৌদি আরবের রিয়াদ ও খোরাইস এলাকায় অবস্থিত সৌদি আরামকো (Saudi Aramco) স্থাপনাগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে রবিবার ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ইরানসমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশের সব অঞ্চল পুনরুদ্ধার করতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়। এর ঠিক পরেই সৌদি আরামকো এশিয়ার বাজারগুলোর জন্য নভেম্বরের অপরিশোধিত তেলের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে ছয় বছরের সর্বনিম্নে নামিয়ে এনেছে।
অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পগুলো ব্যাহত হওয়ায় ওপেক প্লাস (OPEC+) ২০২৭ সালের তেল উৎপাদনের কোটা নির্ধারণ সংক্রান্ত পর্যালোচনা স্থগিত করেছে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ উৎপাদনের অনুমানকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া ইউরোপে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে তাদের হামলা দ্বিগুণ করবে।
সূত্র: রয়টার্স
হুথিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানের ঘোষণা ইয়েমেন সরকারের
প্রথম ধাপে লুলাকে হারিয়ে চমক দেখালেন বলসোনারোর ছেলে