সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রিয়াদজুড়ে বিকট শব্দ শোনার পর বিমান চলাচলে চরম বিপর্যয় দেখা দেয় এবং একাধিক অফিসের কর্মচারীদের ঘরে বসে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে, সৌদির সঙ্গে হুথিদের এই যুদ্ধে সিরিয়া, তুরস্ক ও পাকিস্তানও জড়িয়ে পড়ছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সৌদি আরব সমর্থন জানানোতে, রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে দাবি করেছে হুথিরা। একই সঙ্গে তারা সৌদি আরবের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও স্থলভাগে ছড়িয়ে পড়া এই সংঘাত অঞ্চলে নতুন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো মিত্রদের কাছ থেকে লজিস্টিক ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ। বুধবার সৌদি কর্তৃপক্ষ রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে হামলায় তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর মিত্রদের সহায়তার দাবি আরও জোরদার হয়।
ফ্লাইট নজরদারি ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেশ কিছু ফ্লাইট ওঠানামা ব্যাহত ও বিলম্বিত হয়েছে। কিং আবদুল্লাহ ফাইন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে (কেএএফডি) অবস্থিত একাধিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সকালে বিকট শব্দ শোনার পর কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে নির্দেশ দেয়। কিছু কূটনৈতিক মিশন সতর্কবার্তা এবং বেশ কিছু স্কুল শিক্ষার্থীদের নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ পাঠালেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সার্বিক পাবলিক অ্যালার্ট দেওয়া হয়নি।
ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট ও গৃহযুদ্ধ মার্কিন-ইরান সংঘাতের জেরে গত কয়েক সপ্তাহে আবার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় বাবেল মান্দেব প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু এলাকা দখল করে নিলে সৌদি আরবের সমর্থনে সরকারি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। বর্তমান এ লড়াইয়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং একটি ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
এদিকে সৌদিকে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা বা হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে সিরিয়া সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে মার্কিন ও সিরীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সিরীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কূটনীতিক জানান, সিরিয়া সৌদির পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে, তবে তাদের মূল মনোযোগ গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের ওপর।
এর আগে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্ক সৌদিতে মূলত গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সরঞ্জামসহ প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা পাঠাচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে সৌদির সীমান্ত রক্ষা এবং ইয়েমেনের এডেন শহরে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে বলে জানা গেছে।
পরমাণু চুক্তির সুযোগ হাতছাড়া করেছে ইরান: রুবিও
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫
ইউক্রেনে দুই বাসে রাশিয়ার বোমা হামলা, নিহত ৩৩