সিআইএ’র পুরোনো বিমানঘাঁটিতে চীনের নতুন সামরিক ঘাঁটি

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১০ এএম

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি পুরোনো বিমানঘাঁটিতে নতুন সামরিক কেন্দ্র চালু করেছে চীনের সামরিক বাহিনী। স্থানটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) ব্যবহার করত।

লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েন থেকে প্রায় ৪০ মাইল উত্তরে এবং থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ২৫ মাইল দূরে অবস্থিত এই কেন্দ্রটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘চীন-লাওস যৌথ সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ এবং ‘চীন-লাওস ফ্রেন্ডশিপ এভিয়েশন একাডেমি’। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণা অনুযায়ী, গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্র ও গোয়েন্দা সংস্থা ‘ভ্যান্টর’-এর ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নতুন এই ঘাঁটিতে ৬,৫০০ ফুট (২,০০০ মিটার) দীর্ঘ একটি রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে এবং ২২টি বিমান পার্ক করার উপযোগী অ্যাপ্রন তৈরি সম্পন্ন হয়েছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লাওসের বিমান বাহিনীর বৈমানিকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়েছে এবং উভয় দেশ যৌথভাবে এর রক্ষণাবেক্ষণ করবে। স্যাটেলাইট চিত্রে সেখানে আটটি হালকা যুদ্ধ ও প্রশিক্ষণ বিমান (সম্ভবত 'হংডু জেএল-৮') দেখতে পাওয়া গেছে। বেইজিংয়ের দাবি, এই ঘাঁটিটি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, বরং এটি আঞ্চলিক শান্তি ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য তৈরি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকান দেশ জিবুতিতে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঘাঁটির পর এটি বিদেশের মাটিতে চীনের দ্বিতীয় প্রধান সামরিক উপস্থিতি। এছাড়া তায়ল্যান্ড উপসাগরে অবস্থিত কম্বোডিয়ার 'রিম নৌঘাঁটি' সম্প্রসারণেও অর্থায়ন করেছে বেইজিং, যা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ রয়েছে।

লাওসের এই বান কিউন (Ban Keun) ঘাঁটিটি একসময় সিআইএ পরিচালিত ‘এয়ার আমেরিকা’র গোপন সামরিক অভিযানের লজিস্টিক হাব হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন এখানে ঘাঁটি করায় একটি ঐতিহাসিক প্রতীকি বার্তা তৈরি হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সামরিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না।

সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো ড্রু থম্পসন জানান, এই ঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনীর জন্য কোনো প্রত্যক্ষ হুমকির কারণ তিনি দেখছেন না। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র অ্যানালিস্ট রেচেল ভ্যান্ডেনব্রিংক বলেন, লাওসের কৌশলগত গুরুত্ব থাকলেও বেইজিং মূলত সুযোগ পেয়েই ঐতিহাসিক এই জায়গাটিতে ঘাঁটি গেড়েছে।

সূত্র: সিএনএন

ওয়াইএ
আরও পড়ুন