হজম ভালো রাখতে খেতে পারেন ৮টি পরিচিত খাবার

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম

হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা পেটের অস্বস্তিতে ভুগছেন? অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সব সময় দামি সাপ্লিমেন্ট বা কঠোর খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকা কিছু পরিচিত খাবারও হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

অন্ত্রের কাজ শুধু খাবার হজম করা নয়। নিয়মিত মলত্যাগ, খাবার থেকে পুষ্টি শোষণ এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সহায়তা করার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই অন্ত্রের যত্নে আঁশসমৃদ্ধ খাবার ও পুষ্টিকর উপাদান গ্রহণ করা জরুরি।

চিকিৎসক সৌরভ শেঠি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত খাওয়ার উপযোগী আটটি পরিচিত খাবারের কথা জানিয়েছেন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সেগুলো কী কী।

১. মধু ও টক দই

টক দইয়ে উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। এর সঙ্গে অল্প মধু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসক সৌরভ শেঠির মতে, ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পরিপাকপ্রক্রিয়ার অনুকরণে পরিচালিত পরীক্ষায় মধু দইয়ের প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার টিকে থাকার ক্ষেত্রে সহায়ক ছিল। এ জন্য জীবিত উপকারী ব্যাকটেরিয়াযুক্ত সাধারণ টক দই বেছে নিয়ে তাতে সামান্য মধু মেশানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

২. এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েলে পলিফেনল নামের উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে। এগুলো অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্যও উপকারী হতে পারে এই তেল। সালাদ কিংবা রান্না করা সবজির সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল খাওয়া যেতে পারে।

৩. রসুন

রসুনে থাকা ফ্রুকটান নামের একধরনের কার্বোহাইড্রেট অন্ত্রের কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এ ধরনের উপাদানকে প্রিবায়োটিক বলা হয়। ফলে রসুন অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর বিকাশে সহায়তা করতে পারে। তবে যাঁদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) রয়েছে, তাঁদের কারও কারও ক্ষেত্রে রসুন খেলে পেট ফাঁপা বা অন্য উপসর্গ বাড়তে পারে। এমন সমস্যা হলে রসুনের পরিমাণ কমানো প্রয়োজন।

৪. ডার্ক চকলেট

কমপক্ষে ৭০ শতাংশ কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেটে পলিফেনল থাকে। অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া এসব উপাদানের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে, যা অন্ত্রের জীবাণুর বৈচিত্র্য ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে চকলেটে চিনি ও ক্যালরিও থাকে। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

৫. কিউই ফল

কিউই ফলে আঁশ থাকে, যা মলত্যাগ নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে। চিকিৎসক সৌরভ শেঠির উল্লেখ করা একটি ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দুটি সবুজ কিউই খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা ও পেটের অস্বস্তি কমতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের ফল নাও পাওয়া যেতে পারে।

৬. গাজর

গাজরে থাকা খাদ্যআঁশ হজমপ্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে এবং মলত্যাগে সহায়তা করতে পারে। কাঁচা কিংবা রান্না করা—দুইভাবেই গাজর খাওয়া যায়। প্রতিদিনের খাবারে গাজর রাখলে আঁশ গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো সহজ হয়।

৭. আপেল

আপেলে পেকটিন নামের একধরনের দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য সহায়ক হতে পারে এবং মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। আপেলের খোসায়ও আঁশ ও পলিফেনল থাকে। তাই ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ আপেল খেলে বাড়তি পুষ্টি পাওয়া যায়।

৮. কাঁচা বা হালকা সবুজ কলা

পাকা কলার তুলনায় কাঁচা বা হালকা সবুজ কলায় প্রতিরোধী শ্বেতসার বা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বেশি থাকে। এই শ্বেতসার ক্ষুদ্রান্ত্রে পুরোপুরি হজম না হয়ে বৃহদান্ত্রে পৌঁছায়, যেখানে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া এটি ভেঙে উপকারী স্বল্প-শৃঙ্খল ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে। এসব উপাদান অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শারীরিক চলাফেরা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘদিন হজমের সমস্যা, পেটব্যথা, মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ থাকলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত