বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ আয়োজনে আগামী ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসর। বুধবার (২১ অক্টোবর) ১৬ দলের এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
তিন শহরের চারটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ১৬ দিনের এই টুর্নামেন্ট। এতে অংশ নেওয়া প্রতিটি দল গ্রুপ পর্বে তিনটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। আগামী ২১ জানুয়ারি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে আসর। আর শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে।
টুর্নামেন্টের বেশির ভাগ ম্যাচ আয়োজন করবে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে ১৪টি এবং সিলেটে ১২টি ম্যাচ। এ ছাড়া নেপালের মুলপানি আয়োজন করবে আটটি এবং কীর্তিপুরে হবে সাতটি ম্যাচ।
উদ্বোধনী দিনে সিলেট ও মুলপানিতে দুটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট ও দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে খেলা। শুধু সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে।
চার গ্রুপে ১৬ দল
অংশগ্রহণকারী ১৬ দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে রয়েছে সহ-আয়োজক নেপাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড।
‘বি’ গ্রুপে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও সামোয়া। ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া ও নাইজেরিয়া। আর ‘ডি’ গ্রুপে খেলবে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও স্কটল্যান্ড।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ২৩ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া এবং ২৫ জানুয়ারি গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে সিলেটে।
সুপার সিক্সে উঠবে ১২ দল
প্রতিটি গ্রুপ থেকে তিনটি করে দল সুপার সিক্স পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। ‘এ’ ও ‘ডি’ গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ ছয় দলকে নিয়ে গঠিত হবে সুপার সিক্সের প্রথম গ্রুপ। ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রুপের ছয় দল খেলবে দ্বিতীয় গ্রুপে। প্রতিটি গ্রুপের চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলো পাবে একটি করে প্লে-অফ ম্যাচ খেলার সুযোগ।
সুপার সিক্সে প্রতিটি দল দুটি করে ম্যাচ খেলবে। অন্য গ্রুপ থেকে উঠে আসা দলগুলোর মধ্যে নিজেদের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দুই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে তারা। যেমন, ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল খেলবে ‘ডি’ গ্রুপের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে। একইভাবে ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল খেলবে ‘ডি’ গ্রুপের প্রথম ও তৃতীয় স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে। এই পদ্ধতিতেই নির্ধারিত হবে সুপার সিক্সের ম্যাচগুলো।
গ্রুপ পর্বে সুপার সিক্সে ওঠা দলগুলোর বিপক্ষে অর্জিত পয়েন্ট পরের পর্বেও বহাল থাকবে। উদাহরণ হিসেবে, ‘সি’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সুপার সিক্সে উঠলে এই দুই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের অর্জিত পয়েন্ট পরবর্তী পর্বে যোগ হবে। সে ক্ষেত্রে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচের ফল সুপার সিক্সের হিসাবের অংশ হবে না।
গ্রুপ পর্ব থেকে পাওয়া পয়েন্ট এবং সুপার সিক্সের দুই ম্যাচের ফলের ভিত্তিতে দুই গ্রুপের শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে।
সেমিফাইনাল ও ফাইনাল চট্টগ্রামে
আগামী ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে গ্রুপ পর্বের খেলা। এরপর শুরু হবে সুপার সিক্স পর্ব। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল খেলবে সেমিফাইনালে।
সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে। এ ম্যাচের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল হবে ৬ ফেব্রুয়ারি, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। ফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারি।
নারী ক্রিকেটের বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে আইসিসি
নারী ক্রিকেটের প্রসারে এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্ত। তিনি বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উদীয়মান ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিজ্ঞতা অর্জনের দুর্দান্ত সুযোগ করে দেয়। বাংলাদেশ ও নেপালে বিশ্বমঞ্চের এই আসর নারী ক্রিকেটের গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করবে।’
ড্রোন ভূপাতিত করার ক্ষমতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও দিতে চায় ইউরোপ
ইউক্রেনে স্টারলিংক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত মাস্কের, হোয়াইট হাউসের নয়: রুবিও