হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড—এমন অভিযোগ তুলেছে ইরান। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে দেশটির প্রতিনিধি গোলামহোসেইন দারজি বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ার জন্য ওয়াশিংটনই দায়ী।
তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে দারজি পশ্চিমা দেশগুলোর সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টির জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরান দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রেখেছে। তাঁর দাবি, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন, বাধা বা হস্তক্ষেপের দায় সরাসরি তাদের ওপর বর্তায়, যারা ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাচ্ছে এবং যারা সেই আগ্রাসনে সহায়তা করছে।
ইরানের ওপর দায় চাপানোর প্রচেষ্টাকে ভিত্তিহীন ও অবিশ্বাস্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দারজির বক্তব্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ ছিল। ওই দিন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে এবং দেশটির বেসামরিক ও সামুদ্রিক অবকাঠামো, বন্দর ও জাহাজে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিজের বক্তব্যের পক্ষে কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন ইরানি প্রতিনিধি।
তিনি জানান, ১৯ এপ্রিল মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘তুস্কা’তে হামলা চালায়। এর দুই মাসেরও কম সময় পর, ২৩ মে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবে তারা ১০০টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।
দারজির অভিযোগ, ২৩ জুলাই ইরানের জলসীমার ভেতরে মানবিক উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দুটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নাজি-১৫’ ও ‘নাজি-১৬’-এও হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
তিনি আরও বলেন, ১২ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়া সব সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর ব্যাপক অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকরের সামরিক পদক্ষেপকে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন দারজি।
তাঁর দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদেরও গুরুতর লঙ্ঘন। এই অনুচ্ছেদে কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অবরোধের মানবিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। দারজির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে বেসামরিক মানুষের খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও অন্যান্য জরুরি পণ্য পাওয়ার সুযোগ হুমকির মুখে পড়ছে। এটি জনগণের ওপর সমষ্টিগত শাস্তি চাপিয়ে দেওয়ার শামিল এবং মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে তাদের বঞ্চিত করছে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নেওয়া যেকোনো বিধিনিষেধ বা নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপকে আত্মরক্ষামূলক ও আইনসম্মত বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রতিনিধি।
তিনি বলেন, উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নিজের সার্বভৌম অধিকার, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জনগণ ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বৈধ অধিকার ইরানের রয়েছে।
ইরানি বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান দারজি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানাতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সৌদিতে আগুনে নিহত আরও ৫ বাংলাদেশির মরদেহ আসছে শনিবার
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া ইরানের শীর্ষ ৮ ব্যক্তির কার কি দায়িত্ব?
ইসরায়েলের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর ৫ পথ