ইরানকে সহায়তার অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে ভারতীয় দম্পতি

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম

ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারতের চণ্ডীগড়ভিত্তিক এক দম্পতি এবং তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, জাহাজের ভুয়া পতাকা নিবন্ধন ও সনদ দেওয়ার মাধ্যমে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে সহায়তা করছিলেন ওই দম্পতি।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ভারতীয় দম্পতি হলেন শর্মা ও শহিদ। তবে তাঁদের পূর্ণ নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে তুরস্কভিত্তিক ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি)।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, শর্মা ও শহিদ গায়ানা, এসওয়াতিনি ও লাওসের মতো দেশের প্রতিনিধি পরিচয়ে প্রতারণামূলকভাবে জাহাজের পতাকা নিবন্ধন ও বিভিন্ন সনদ দেওয়ার কাজ করতেন। এর মাধ্যমে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগীদের হয়ে পরিচালিত জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেত।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শর্মার পরিচালিত নেটওয়ার্ক বিভিন্ন ওয়েব ডোমেইন কিনে এমন ওয়েবসাইট তৈরি করেছিল, যেগুলোতে দাবি করা হতো—তারা বিভিন্ন দেশের পক্ষে জাহাজের পতাকা নিবন্ধন, নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান এবং জাহাজের শ্রেণিবিন্যাসের মতো সেবা দেয়।

এ ছাড়া ভারতভিত্তিক একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভুয়া পতাকা নিবন্ধনব্যবস্থা গড়ে তোলার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ভুয়া পতাকা ও জাল সামুদ্রিক সনদের মাধ্যমে কিছু জাহাজ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিধিবিধান এড়িয়ে চলতে পারে। এসব জাহাজের ক্ষেত্রে বৈধ ক্ষতিপূরণ বা দায়বদ্ধতা বিমা না থাকার ঝুঁকিও রয়েছে।

তুরস্কের ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একাধিক ইরানি বিমান সংস্থাকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তালিকায় রয়েছে ইরান এয়ার ট্যুর, সাহা এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস ও আতা এয়ারলাইনস। এসব সংস্থা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তুরস্কে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রেখেছিল বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

ইরানকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যারা ইরানি সরকারকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে, তাদের অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র অবগত এবং তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টেও বেসেন্ট বলেন, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট—হয় আপনারা আমাদের পক্ষে, নয়তো বিপক্ষে। ইরানকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশ—যেকোনো পথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন