প্যারাগুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হয়েছেন পেদ্রো আলিয়ানা। ব্যাংকিং সংকট ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ক্ষোভের মুখে সেনেট প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে ইমপিচ করে অপসারণ করার পর উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি ক্ষমতা নেন।
ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ইউএনও-র পতনের দায় পেনিয়ার ওপর চাপিয়েছিলেন আইনপ্রণেতারা। প্রতিষ্ঠানটি ভেঙে পড়ায় লাখ লাখ গ্রাহক নিজেদের হিসাবে ঢুকতে পারছিলেন না। এর জেরে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল কোলোরাডো পার্টির শীর্ষ নেতারাও পেনিয়ার পাশ থেকে সরে দাঁড়ান।
৫২ বছর বয়সী আলিয়ানা ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাকি মেয়াদ পূর্ণ করবেন। ২০২৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শীর্ষে পৌঁছানোর স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই লক্ষ্যে তিনি পৌঁছালেন দুই বছর আগেই।
সোমবার পর্যন্ত তিনি পেনিয়ার অনুগত ছিলেন। সেদিন ঘোষণা করেন, সরকার আর্থিক সংকট সামলানোর সময় তিনি ডিসেম্বরের দলীয় প্রাইমারিতে নিজের প্রার্থিতা স্থগিত রাখছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হতে চাই। আমার সক্ষমতা আছে, জ্ঞান আছে, ধারণাও আছে।’ একই সংবাদ সম্মেলনে অন্যের ভুলের দায় নিতে অনিচ্ছার কথাও জানান তিনি। অনেকে একে পেনিয়ার কাছ থেকে দূরত্ব তৈরির ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত যে ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর মালিকানায় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি ছিল, পেনিয়া তার অংশীদার ছিলেন।
সাত বছর কোলোরাডো পার্টির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আলিয়ানা। গত আট দশকের বেশির ভাগ সময় প্যারাগুয়ে শাসন করেছে এই দল। সাবেক প্রেসিডেন্ট ওরাসিও কার্তেসের সঙ্গে হাত ধরেই তিনি দলের শীর্ষ পর্যায়ে উঠেছেন।
ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের আমেরিকা অঞ্চলের প্রধান বিশ্লেষক মারিয়ানো মাচাদোর মূল্যায়ন, আলিয়ানার শাসনে নীতির ধারাবাহিকতা থাকবে, কার্তেসের ওপর নির্ভরতা বাড়বে, আর ম্যান্ডেট হবে দুর্বল। তাঁর ভাষ্য, প্যারাগুয়ের বিনিয়োগ-সম্ভাবনার প্রধান প্রবক্তা পেনিয়া বিদায় নিলেন। প্রচলিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বহাল থাকবে বলে তিনি মনে করেন। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনের আগে দলীয় অনুগতদের খুশি রাখতে খরচের চাপও বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে সরব আলিয়ানা। গত আগস্টে ইনফোবাইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগ "শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস" সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় প্যারাগুয়েকে সহায়তা করবে। তাইওয়ানের পাশেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন তিনি। দ্বীপটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখা মাত্র ১২টি দেশের একটি প্যারাগুয়ে। ইসরায়েলের প্রতিও তাঁর সমর্থন স্পষ্ট।
ইউএনও-র তদারকি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই সংকটের শুরু। এতে এ সপ্তাহের শুরুতে আসুনসিওনের রাস্তায় বিক্ষোভ হয়। মঙ্গলবার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও।
২০২৩ সালে উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে এক দশক চেম্বার অব ডেপুটিজে দক্ষিণাঞ্চলীয় নেমবুকু প্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন আলিয়ানা। সেখানেই তাঁর জন্ম। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ওই প্রদেশের গভর্নরও ছিলেন। স্বল্পভাষী এই রাজনীতিক কোলোরাডো পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত বলে পরিচিত।
কংগ্রেস কীভাবে ট্রাম্পের ক্ষমতায় লাগাম টানবে?
কেনিয়ায় ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে ধর্মগুরুর ২০০ বছরের কারাদণ্ড
‘দেশের উৎপাদন সক্ষমতা আর রপ্তানি সক্ষমতা এক জিনিস নয়’