‘ইনশা আল্লাহ, আমরা উইনিং টিম হমু’- সিলেটি উচ্চারণে হামজার অঙ্গীকার

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৪১ পিএম

জাতীয় স্টেডিয়ামের বিকেলটা যেন একটু অন্যরকম ছিল মঙ্গলবার। অনুশীলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক সিলেটি তরুণের মুখ থেকে উচ্চারিত হলো আত্মবিশ্বাসে ভরা কিছু শব্দ, ‘আমরা জিতমু।’

তিনি হামজা চৌধুরী। লেস্টার সিটির ফুটবলার, এখন বাংলাদেশের জার্সিতে দেশের স্বপ্নবাহী এক নাম। হংকংয়ের বিপক্ষে আসন্ন এশিয়ান কাপ বাছাই ম্যাচের আগে পুরো দল যেমন প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তেমনি হামজার কণ্ঠেও ফুটল জয়ের প্রত্যয়, ‘তৃতীয়বারের মতো আইছি। টিমের সঙ্গে সম্পর্ক খুব ভালো অইছে। কোচ, প্লেয়ার সবাই কঠিন পরিশ্রম করতেছে। খুব ভালা লাগতেছে। আমরা ইনশা আল্লাহ জিতমু’ -সিলেটি আঞ্চলিক টানে এমন জবাবে হাসির ঝিলিক পড়ল অনুশীলন মাঠে।

তবে যখন তাঁকে ‘বাংলাদেশের মেসি’ বলা হলো, তখন সেই হাসিটাই মিশে গেল বিনয়ে, ‘না, না, আমি তো দলের একজন মাত্র। ফুটবল কখনো একজনের খেলা নয়। এমনকি মেসিও যদি বাংলাদেশের হয়ে খেলতেন, তবুও চ্যালেঞ্জ থাকতই। দলীয় ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি।’

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হারের স্মৃতি এখনো তাজা। সেই ম্যাচে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। এ নিয়ে অনুশোচনাও লুকালেন না হামজা, ‘খুব খারাপ লেগেছিল। সেই মুহূর্তটা রিপ্লেতে দেখেছি আমি। পরেরবার ইনশা আল্লাহ মিস করব না।’

বাংলাদেশ দল এখন ইনজুরিতে জর্জরিত। ইব্রাহিম ও সুমন রেজা ছিটকে গেছেন, তারিক কাজী ও তপু পুরোপুরি ফিট নন। তবুও কোনো অজুহাত খাড়া করতে চান না তিনি, ‘ফুটবলে চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আমরা তরুণ দল, কিন্তু বেঞ্চেও ভরসা আছে। যারা খেলবে, তারা প্রস্তুত।’

কোচের প্রতি তার আস্থা অবিচল, ‘কোচের সঙ্গে আমার বোঝাপড়া দারুণ। তিনি বুদ্ধিমান, দলটা নতুন-তাই সময় লাগবে। তবে আমরা সবাই বিশ্বাস করি, জেতা সম্ভব।’

নিজের ভূমিকাও স্পষ্ট হামজার কাছে, ‘মিডফিল্ডার মানে দুই দিকেই কাজ করা-রক্ষণ আর আক্রমণ। আমি দুটোই উপভোগ করি।’

আর মাঠের বাইরের অভিজ্ঞতাও তার জন্য বিশেষ, ‘এখানকার মানুষ যে ভালোবাসা দেয়, সেটা অন্য কোথাও পাইনি। এবার স্ত্রী আর সন্তানও আইছে। তাদেরও খুব ভালো লাগছে।’

৯ অক্টোবর জাতীয় স্টেডিয়ামে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ হংকং চায়না। চোট, চাপ আর প্রত্যাশার ভার সত্ত্বেও হামজার চোখে কেবল এক লক্ষ্য, ‘’আমরা একসঙ্গে থাকলে ইনশা আল্লাহ জয় আসবেই।’

আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত