ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণিল শোভাযাত্রা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হওয়া এ শোভাযাত্রায় নানা বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর ধর্মীয় তাৎপর্যকে সামনে রেখে আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকেই এসেছিলেন ঐতিহ্যবাহী সাজ-পোশাকে। নারীদের অনেকের পরনে ছিল শাড়ি, কপালে টিপ, হাতে চুড়ি ও ফুলের সাজ। পুরুষদের কেউ পরেছিলেন পাঞ্জাবি, কেউ ধুতি-পাঞ্জাবি। শিশু-কিশোরদেরও দেখা যায় নানা রঙের পোশাকে। অনেককে কৃষ্ণ, রাধা ও অন্যান্য পৌরাণিক চরিত্রের সাজে অংশ নিতে দেখা যায়।
শোভাযাত্রায় ছিল নানা ধরনের বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। ঢাক-ঢোল, কাঁসর, করতাল ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের নামগান ও ভজন-কীর্তনে অংশ নেন। শোভাযাত্রার বিভিন্ন অংশে ছিল নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সব মিলিয়ে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে আনন্দ, ধর্মীয় আবেগ ও উৎসবের মিলনমেলা।

বিকেল ৩টার দিকে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এরপর পলাশী বাজার, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, বঙ্গবাজার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবন, গোলাপ শাহ মাজার ও গুলিস্তান মোড় হয়ে নবাবপুর রোড, রায় সাহেব বাজার মোড় অতিক্রম করে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শোভাযাত্রাটি শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় জাতীয় পূজা উদযাপন কমিটির নেতা, ধর্মীয় গুরু এবং রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতারা অংশ নেন।
শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়ে ছিল ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতি। দলবদ্ধভাবে কীর্তন করতে করতে এগিয়ে যান। শিশুদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। শোভাযাত্রাকে ঘিরে সড়কের দুই পাশেও উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।
শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শোভাযাত্রার নির্ধারিত রুটে যানবাহন পার্কিং না করা, নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাগ, পোটলা বা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো সামগ্রী বহন না করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অংশগ্রহণকারীদের অনুরোধ করা হয়েছিল।
শোভাযাত্রার রুটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। ব্যারিকেড ও নিরাপত্তা তল্লাশির ব্যবস্থাও ছিল। শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকেও শৃঙ্খলা বজায় রেখে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসবের আমেজে শেষ হয় জন্মাষ্টমীর বর্ণিল শোভাযাত্রা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব জন্মাষ্টমী। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরায় দেবকী ও বাসুদেবের ঘরে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়। অত্যাচারী রাজা কংসের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা এবং অন্যায়-অত্যাচারের অবসান ঘটিয়ে ধর্ম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল বলে বিশ্বাস করেন ভক্তরা।
শ্রীকৃষ্ণকে ঘিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ভক্তি, প্রেম, ন্যায় ও মানবতার নানা শিক্ষা প্রচলিত রয়েছে। তাই জন্মাষ্টমী শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের দিন নয়, ভক্তদের কাছে এটি সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার প্রত্যয় জানানোরও দিন।
এ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন মন্দিরে দিনভর পূজা-অর্চনা, গীতাযজ্ঞ, নামকীর্তন, ভজন ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রাতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মক্ষণে বিশেষ পূজা ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
নোয়াখালী বিভাগের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে স্কচটেপ মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর যেসব মার্কেট-দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে আজ