চুয়াডাঙ্গায় কমেনি শীতের তীব্রতা, বাড়ছে শীতজনিত দুর্ভোগ

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

চুয়াডাঙ্গায় টানা চারদিন পর শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলেও শীতের তীব্রতা এখনও কমেনি। তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে, তবে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার দাপটে জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।

এর আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ৯ ডিগ্রি, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি এবং বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত চারদিন ধরে মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও তা এখন কেটে গেছে।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, টানা চারদিন মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও চলতি সপ্তাহে আবার নতুন করে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী মঙ্গলবার অথবা বুধবার থেকে পুনরায় জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সে সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে সাড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে।

এদিকে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। ঝুঁকি এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূলরা। অনেককে খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুর ও শ্রমিকরা জানান, শীত উপেক্ষা করেই কাজে যেতে হচ্ছে। এক কৃষিশ্রমিক বলেন, ভোরে মাঠে নামতেই খুব কষ্ট হচ্ছে। ঠান্ডায় হাত ঠিকমতো চলে না। বাতাস থাকায় শীত আরও বেশি লাগছে। তারপরও কাজ না করলে চলবে না।

আরেক দিনমজুর বলেন, সকালে কুয়াশা এত ঘন থাকে যে কিছুই দেখা যায় না। তবুও জীবিকার তাগিদে বের হতে হচ্ছে।

শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব সাময়িকভাবে কমলেও ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে চুয়াডাঙ্গার জনজীবনে শীতজনিত দুর্ভোগ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

SN
আরও পড়ুন