নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জামদানি পল্লি নন্দীপুর গ্রাম। প্রায় ২৫০ মানুষের বসবাস এই গ্রামে। কিন্তু তাদের দৈনন্দিন জীবন যেন নিরবচ্ছিন্ন সংকটের। কারণ, ভারগাঁওয়ের মোড় (৩ নম্বর ওয়ার্ড) থেকে নন্দীপুর (৪ নম্বর ওয়ার্ড) পর্যন্ত ৩৮০ ফুট পথে কোনো রাস্তা নেই!
তিনদিকে পানি ঘেরা এই গ্রামের মানুষজন বর্তমানে কীভাবে চলাচল করেন? একটাই উপায়—দুই বাড়ির মাঝখানের সরু কাঁচাপথ ধরে হেঁটে যাতায়াত করেন গ্রামবাসী। কখনোবা নৌকায়। বাড়ির তৈরি এই ফাঁকা জায়গা বর্ষা এলেই কাদা-পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে তখন হাঁটাচলা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এতে প্রতিদিনের ভোগান্তির শেষ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে শিশুদের স্কুলে যাওয়া, বৃদ্ধ-অসুস্থদের হাসপাতালে নেওয়া, এমনকি বিয়ে-শাদির মতো অনুষ্ঠান করাও দায় হয়ে ওঠে। ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা।

এলাকার এক মৎস্য খামারি মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘গ্রামে কোনো রাস্তা না থাকায় আমাদের গ্রামবাসীর সঙ্গে অন্য এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। আমাদের সঙ্গে অন্য এলাকার মানুষেরা বিয়ে-শাদির মতোর কোনো সম্পর্ক করতে চান না। রাস্তার অভাবে কোনো মালামাল পরিবহন করা যায় না। স্বাভাবিক জীবন-যাপনের জন্য এলাকায় একটি রাস্তা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী মো. মোক্তার হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্রামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। এলাকার শিশুরা ভারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। রাস্তা না থাকায় অনেক পথ ঘুরে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয়। এতে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হয় এবং অভিভাবকরাও থাকেন আতঙ্কে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ রাস্তার বিষয়ে আমরা জনপ্রতিনিধি, মেম্বার, চেয়ারম্যানের দারস্থ হয়েছি, আবেদন করেছি। তারা আমাদের তৈরি করে দেওয়ার আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু ভারগাঁওয়ের মোড়ের (এলাকার প্রবেশ পথ) কিছু বাসিন্ধারা রাস্তার জন্য জমি দিতে রাজি হচ্ছেন না। তাই আমরা কয়েক বছর চেষ্টা করেও রাস্তা তৈরি করতে পারিনি।’

গ্রামবাসীদের দাবি, মাত্র ৩৮০ ফুট জায়গায় একটি পাকা বা আধা-পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হোক। তাহলে তাদের দশকের কষ্টের অবসান হবে। প্রশাসনের কাছে তাদের আবেদন, এলাকার এই মৌলিক সমস্যার দ্রুত সমাধান করুন। নইলে বর্ষা এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে সাদীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রমজান আলী ও মেম্বার আবদুল্লাহ আল ফয়সালকে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। তাই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, ভারগাঁও ঐতিহ্যবাহী জামদানি বুননশিল্পের জন্য পরিচিত। সঠিক সড়ক যোগাযোগ থাকলে এই শিল্প আরও বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে বলে মনে করেন তাঁতিরা।