মাধবপুরে ভূমি অফিসে জনবল সংকট, ব্যাহত হচ্ছে ভূমিসেবা

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চলছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগো ও সার্ভেয়ারসহ ১৮টি পদের মধ্যে ১১টিই শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ভূমি সংক্রান্ত সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ।

ভূমি সংক্রান্ত সেবা দ্রুত জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশে ই-নামজারি চালু করা হলেও মাধবপুর ভূমি অফিসে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এর সুফল পুরোপুরি মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদের মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি বর্তমানে শূন্য। মো. আনিসুল ইসলাম সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদানের মাত্র ২০ দিন পর বদলি হয়ে যাওয়ায় পদটি শূন্য হয়। কানুনগো সাইফুদ্দিন আহমেদ ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বদলি হওয়ার পর থেকে প্রায় ছয় বছর ধরে পদটি শূন্য রয়েছে।

অন্যদিকে সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম প্রায় চার মাস আগে পদোন্নতি পেয়ে কমলগঞ্জ ভূমি অফিসে যোগ দেন। বর্তমানে বাহুবল ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জোনায়েদ আহমেদ হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত থাকার পাশাপাশি সপ্তাহে এক দিন মাধবপুর ভূমি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

ভূমি অফিসে চেইনম্যান, জারিকারক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, নাজির কাম ক্যাশিয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদও শূন্য রয়েছে। মোট ১৮টি পদের মধ্যে ১১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

মাধবপুর উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে। এগুলো হলো—মনতলা, মাধবপুর সদর, আদাঐর, নোয়াপাড়া ও কালিকাপুর।

মনতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, আয়তনের দিক থেকে সিলেট বিভাগের অন্যতম বড় ইউনিয়ন ভূমি অফিস মনতলা। এ অফিসের আওতায় ৯৯টি মৌজা রয়েছে। ছয়টি পদের বিপরীতে বর্তমানে দুইজন কর্মকর্তা ও দুজন এমএলএসএস কর্মরত রয়েছেন।

তিনি বলেন, এলাকায় বালুমহাল থাকায় অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করতে হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে যেতে হয়। জনবল সংকটের কারণে এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মরতদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

মাধবপুর সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছয়টি পদের মধ্যে দুটি পদ শূন্য রয়েছে। নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও দুটি পদ শূন্য। ফলে এসব অফিসে নিয়মিত ভূমিসেবা দিতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা লোকমান হোসেন জানান, তাঁর কার্যালয়ে ছয়টি পদের মধ্যে চারটিই শূন্য। এলাকায় নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠায় ভূমি সংক্রান্ত কাজের চাপও বেড়েছে। জনবল সংকটের কারণে দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে। এমনকি ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও অনেক সময় ছুটি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আদাঐর ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও জনবল সংকট রয়েছে। সেখানে বর্তমানে একজন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও একজন এমএলএসএস কর্মরত রয়েছেন।

জনবল সংকটের কারণে ভূমিসেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যে এ সংকট কমে আসবে। তবে কাজ থেমে নেই। যারা কর্মরত আছেন, তাঁরা রাত পর্যন্ত কাজ করে দায়িত্ব পালন করছেন।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অফিসে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা না হলে ই-নামজারিসহ অন্যান্য ডিজিটাল ভূমিসেবা কার্যক্রমের গতি আরও কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে সেবাপ্রত্যাশী মানুষের ভোগান্তিও বাড়তে পারে। তাই জনস্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

এমএজেড
আরও পড়ুন