চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুই শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রথমে ঘটনাটিকে ‘ডাকাতদলের হামলা’ বলে প্রচার করা হলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এটি ছিল মূলত একটি নৌ-দুর্ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, মালিকপক্ষ নিজেদের অবহেলা ও দায় এড়াতে এই ‘ডাকাতির গল্প’ সাজিয়েছিল।
গত রোববার (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলে ‘কেআর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড’ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে সাইফুল ইসলাম (২৫) ও আবদুল খালেক (২৭) নামে দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একজনের দেহ থেকে মাথা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে।
ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন দাবি করেছিলেন, ডাকাতদলকে ধাওয়া করতে গিয়ে নৌকাডুবিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে শিল্প পুলিশ ও জেলা পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ওই রাতে কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। মূলত জাপান থেকে আসা একটি বড় জাহাজ ইয়ার্ডে ভেড়ানোর সময় ঘন কুয়াশায় ছোট বোটের ওপর উঠে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বোটটি ডুবে গিয়ে দুই শ্রমিক প্রাণ হারান।
এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের স্বজনেরা। বেসরকারি সংস্থা বিলস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জাহাজভাঙা শিল্পে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৫৮ জন শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যার বড় অংশই ছিল মালিকপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতার ফল।
সীতাকুণ্ডের এই ঘটনাটি পুনরায় দেশের জাহাজভাঙা শিল্পের রুগ্ন নিরাপত্তা চিত্র ও শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

