খুলনা-২ আসনের খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের অদূরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার জেরে মহিবুজ্জামান কচি (৪৮) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ১০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক এবং নগরের হাজী মহসিন রোডের বাসিন্দা।
খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করেন, ‘সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের পক্ষে কাজ করছিলেন। তাকে বাধা দিলে তিনি মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং মারা যান।’
তবে জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিএনপির লোকজন আমাদের নারী কর্মীদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছিল। আমি বাধা দিলে তাদের মধ্যে একজন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এখানে কোনো ধাক্কাধাক্কি বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলেই সত্যতা পাওয়া যাবে।’
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. পার্থ রায় জানান, মহিবুজ্জামান কচিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত এসআই খান ফয়সাল রাফি বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এসময় একজনকে অটোরিকশায় করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। সেখানে হাতাহাতির কোনো ঘটনা আমাদের চোখে পড়েনি।’
খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতার গ্রেপ্তার দাবি করেছেন। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট শেখ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কচি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে জামায়াতকে জড়ানো হচ্ছে।’
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া জানান, তিনি কাউকে ধাক্কা দেননি, বরং বিশৃঙ্খলা এড়াতে সবাইকে সরে যেতে বলেছিলেন।
নির্বাচনি উল্লাস ও ‘ভি’ চিহ্নের নেপথ্য ইতিহাস
চার কেন্দ্রে ২ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে যত
