চট্টগ্রামে প্রেমিককে ৬ টুকরো করে খালে ফেললেন সুফিয়া!

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৫ এএম

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার মো. আনিস (৩৮) নামে এক ব্যক্তির ছয় খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুফিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন রাউজান উপজেলার চিকদাইর এলাকার বাসিন্দা আনিস। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করা হলে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে শুক্রবার বিকেলে নগরের অক্সিজেন এলাকার লোহারপুল সংলগ্ন খাল থেকে আনিসের মাথা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত সুফিয়া আক্তার জানান, মঙ্গলবার রাতে তিনি আনিসকে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে শিল-পাটা দিয়ে আনিসের মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। পরে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘাড় কেটে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহ ছয় টুকরো করে নগরের বিভিন্ন খালে ফেলে দেন সুফিয়া।

হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে দুটি ভিন্ন দাবি উঠে এসেছে। নিহত আনিসের স্বজনদের অভিযোগ, সুফিয়াকে দেওয়া ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আনিসকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সুফিয়ার স্বজনদের দাবি, আনিস তাকে অন্তরঙ্গ ভিডিও ও ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন, যা থেকে বাঁচতে এই পথ বেছে নিয়েছেন সুফিয়া।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর জানান, হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবদিক খতিয়ে দেখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

DR/AHA
আরও পড়ুন