নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিএনপি ও এনসিপির সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় দিক বেদিক ছুঁটতে থাকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসা হাজার হাজার লোক।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে দ্বীপের নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাট নৌপথে এ ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী ফেরি মহানন্দা সার্ভিসটি উদ্বোধন করেন।
এসময় বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, চীপ ইঞ্জিনিয়ার, বিআইডব্লিউটিসির কমার্শিয়াল ডিরেক্টর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, হাতিয়া দ্বীপ সমিতির একটি প্রতিনিধি দল, সম্মিলিত সামাজিক সংগঠন ও হাতিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে, ফেরি আনার পিছনে অবদান নিয়ে পৃথকভাবে স্লোগান দিতে থাকে এনসিপি ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। আর স্লোগানকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। যা একপর্যায়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হাতাহাতির গড়ায়। হাতাহাতি ও ইট পাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে নৌবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা।
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নৌ-পুলিশ এর উদ্যোগে তাদের শান্ত করে ফেরি উদ্বোধন করা হয়।
সূত্র জানায়, উদ্বোধনের কয়েক মিনিট পরই বিএনপি ও এনসিপি দুই পাশে দাড়িয়ে মিছিল করে। এক পর্যায়ে মিছিল দুটি মুখোমুখি হয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পক্ষে ১০ জন আহত হয়। পরে নৌপুলিশ, হাতিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলা উদ্দিন জানান, উদ্বোধনি অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চলে যাওযার পর বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীরা নিজেদের ক্রেডিট নিয়ে হাতাহাতিতে জড়িত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, দেশের মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া বহুবছর ধরে উন্নয়নসহ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। দ্বীপবাসী বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছে- নদীভাঙন রোধ,ফেরি সার্ভিসসহ জরুরি সেবার দাবিতে। এরই প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ঢাকাস্থ 'হাতিয়া দ্বীপ সমিতি' নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে 'ঢাকা টু হাতিয়া নলচিরা ঘাট রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ, ফেরী কাম সিট্রাক বরাদ্দ)'র আবেদন করেন।
বিষয়টির গুরুত্ব তুলে করে তৎকালীন নোয়াখালী জেলা প্রশাসাক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ একই বছরের ১২ মার্চ 'হাতিয়ায় উপকূলীয় নদী বন্দর স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ' মর্মে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর সুপারিশ পাঠান।

