সিআইডি পুলিশের জ্যাকেটের আদলে তৈরি জ্যাকেট পরিধান ও হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে নিজেদের সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে এক নারীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে নোয়াখালীতে ৭জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ সময় তাদের কাছ থেকে সিআইডি বাংলাদেশ পুলিশের জ্যাকেটের আদলে তৈরি চারটি জ্যাকেট, তিনটি ওয়াকিটকি ও একটি এক্স-নোহা গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম। এর আগে, বুধবার রাত ১২টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসুন্ধরা কলোনীর ব্রাইট হাউজে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলাম (৩২), রুবেল হোসেন (২৯), রাজশাহীর মো. জাহাঙ্গীর আলম (২৮), বগুড়ার আবুল কাশেম সোহেল (৩৮), চট্টগ্রামের মো. শাহাদাত হক খান চৌধুরী (২৯), ফেনীর মো. নাদির (২৯) এবং ঢাকার মো. শরীফ মিয়া (৫৫)।
পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ওই বাসার বাসিন্দা মো. আতাউর রহমান (৬২) অভিযোগ করেন, কয়েকজন ব্যক্তি সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে তার বাসায় ঢুকে মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে সুধারাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়।
এ সময় জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম সোহেল ও শাহাদাত হক খান চৌধুরীকে সিআইডি পুলিশের জ্যাকেটের আদলে তৈরি জ্যাকেট পরা এবং হাতে ওয়াকিটকি থাকা অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। পরে শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও মো. নাদিরকেও ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে তিনটি জ্যাকেট ও তিনটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। পরে বাসার সামনে থাকা ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৮২৪৫ নম্বরের একটি এক্স-নোহা গাড়ি থেকে মো. শরীফ মিয়াকে আটক করা হয়। ওই গাড়ি থেকেও পুলিশের ব্যবহৃত জ্যাকেটের আদলে তৈরি আরও একটি গাঢ় খাকি রঙের জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আতাউর রহমানের মেয়ে তাসনীমুল জান্নাত ওরফে মালিহার সঙ্গে গ্রেপ্তার শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলামের শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হলে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তাদের বিবাহ বিচ্ছে হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম সোহেল ও শাহাদাত হক খান চৌধুরী সিআইডি পুলিশের জ্যাকেটের আদলে তৈরি পোশাক পরে ও ওয়াকিটকি হাতে নিজেদের সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে আতাউর রহমানের বাসায় প্রবেশ করেন। পরে শুভ চৌধুরী, রুবেল হোসেন ও নাদিরও সেখানে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তারা তাসনীমুল জান্নাত ওরফে মালিহাকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের আটক করেন।
ওসি মো.নজরুল ইসলাম আরও জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
চকরিয়ায় বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪
সাড়ে তিন লাখে বিক্রি হলো ২২ কেজির ‘ধাতিনা ভোল’