নুহাশপল্লীতে অশ্রু ও ভালোবাসায় হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম প্রয়াণ দিবসে তার স্মৃতিবিজড়িত গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে ঢল নেমেছে ভক্ত, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের।

রোববার (১৯ জুলাই) সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে নুহাশপল্লী পরিণত হয় এক আবেগঘন মিলনমেলায়। প্রিয় লেখকের সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন এবং গভীর ভালোবাসায় তাকে স্মরণ করেন সর্বস্তরের মানুষ।

দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারত করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘গত ১৪ বছর ধরে আমরা নুহাশপল্লীতেই জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজন করে আসছি। আমি না থাকলেও আমার সন্তানরা ও সহকর্মীরা এই আয়োজন অব্যাহত রাখবে। সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের কাছে আমার কোনো চাওয়া নেই।’

প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে নুহাশপল্লীজুড়ে ছিল এক আবেগঘন পরিবেশ। অনেক ভক্ত প্রিয় লেখকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবে সমাধির পাশে সময় কাটান। গাজীপুরের মনিপুর থেকে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আসা শিলা নামের এক ভক্ত জানান, হুমায়ূন আহমেদের বই তার অত্যন্ত প্রিয়, তাই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন।

ঢাকা থেকে আসা ‘হিমু পরিবহন’-এর সদস্য দীপ হালদার বলেন, ‘প্রতি বছরই আমরা হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী ও প্রয়াণ দিবসে এখানে আসি। তার সাহিত্য আমাদের জীবন ও চিন্তায় অনুপ্রেরণা জোগায়।’

দিনব্যাপী এই আয়োজনের মধ্যে ছিল কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, স্মৃতিচারণা, রচনা পাঠ এবং এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ। এছাড়া অনেক ভক্তকে হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী চরিত্র ‘হিমু’ ও ‘রূপা’র আদলে সেজে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়, যা পুরো আয়োজনে এক ভিন্ন মাত্রা ও প্রাণবন্ততার সৃষ্টি করে।

MCH/SN
আরও পড়ুন