যাত্রী ছাউনি নেই, রোদ-বৃষ্টিতে দুর্ভোগে কাপাসিয়ার যাত্রীরা

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তাজউদ্দীন আহমদ চত্বর বাসস্ট্যান্ডে প্রতিদিন হাজারো যাত্রীকে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সড়ক প্রশস্তকরণের সময় পুরোনো যাত্রী ছাউনি ও গণশৌচাগার ভেঙে ফেলা হলেও দীর্ঘদিনেও নতুন কোনো ছাউনি নির্মাণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা–কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই বাসস্ট্যান্ড দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন। কেউ কর্মস্থলে, কেউ চিকিৎসার জন্য, আবার কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাসের অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু মাথার ওপর নেই কোনো ছাউনি। তীব্র রোদ কিংবা হঠাৎ বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদের। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
 
বৃষ্টি শুরু হলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে আশপাশের দোকানের সামনে আশ্রয় নেন। এতে দোকানদারদের ব্যবসায়ও বিঘ্ন ঘটে। বাস এলে জমে থাকা পানি ও কাদা মাড়িয়ে যাত্রীদের গাড়িতে উঠতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে গাজীপুর জেলা পরিষদের নির্মিত একটি যাত্রী ছাউনি ও গণশৌচাগার ছিল। মহাসড়ক প্রশস্তকরণের সময় সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন করে কোনো যাত্রী ছাউনি বা গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়নি।
 
বাসের যাত্রী ফারুক মিয়া বলেন, ‘রোদে দাঁড়িয়ে থাকা যেমন কষ্টের, তেমনি বৃষ্টি হলে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। ভিজেই বাসে উঠতে হয়। একটি যাত্রী ছাউনি হলে আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমত।‘
স্থানীয় বাসিন্দা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কাপাসিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের জন্য কোনো ছাউনি নেই। বর্ষা মৌসুমে মানুষ বাধ্য হয়ে দোকানের সামনে দাঁড়ায়। এতে যাত্রী ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই সমস্যায় পড়ে।‘
 
যাত্রী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘পরিবারের নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করা খুবই কঠিন। বৃষ্টি বা রোদ থেকে বাঁচার কোনো ব্যবস্থা নেই। দ্রুত একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা দরকার।‘
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টি শুরু হলে একসঙ্গে অনেক মানুষ দোকানের সামনে আশ্রয় নেন। এতে দোকানে ক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হয়। তবে মানবিক কারণে কাউকে ফিরিয়েও দেওয়া যায় না।
 
সম্রাট পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বাশার বলেন, ‘তাজউদ্দীন আহমদ চত্বর কাপাসিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডগুলোর একটি। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এখানে ওঠানামা করেন। দ্রুত একটি আধুনিক যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।‘
 
পথেরসাথী রাজদূত পরিবহনের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ বলেন, ‘সড়ক প্রশস্তকরণের সময় পুরোনো যাত্রী ছাউনি ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু নতুন ছাউনি নির্মাণ না হওয়ায় যাত্রীরা চরম কষ্টে আছেন। যাত্রী ছাউনির পাশাপাশি একটি গণশৌচাগার ও উন্নত ড্রেনেজব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।‘
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, ‘এটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা। তাই সেখানে আমাদের কোনো অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ নেই।‘
 
গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সার্ভেয়ার দিয়ে যাচাই করা হবে। জায়গাটি যদি জেলা পরিষদের মালিকানাধীন হয়, তাহলে জনস্বার্থে সেখানে যাত্রী ছাউনি ও গণশৌচাগার নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‘
 
স্থানীয়দের দাবি, কাপাসিয়ার অন্যতম ব্যস্ত এই বাসস্ট্যান্ডে দ্রুত একটি আধুনিক যাত্রী ছাউনি, বসার ব্যবস্থা, গণশৌচাগার এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে প্রতিদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন হাজারো যাত্রী।
 
MCH
আরও পড়ুন