বিদ্যালয় আছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও আছেন, রয়েছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও। শুধু নেই বিদ্যালয়ে যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময় জমির আল ধরে চলাচল করতে হয় টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বর্ষা এলেই সেই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। আবাদি জমিতে পানি জমে গেলে কাদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয় তাঁদের।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে ৮৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত আছেন চারজন শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করা হলেও পরবর্তী সময়ে আশপাশের জমির মালিকেরা যাতায়াতের জন্য জায়গা না ছাড়ায় বিদ্যালয়ের সঙ্গে মূল সড়কের কোনো সংযোগ তৈরি হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমির আলই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের চারপাশে আবাদি জমি। এসব জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ গজ পশ্চিমে একটি রাস্তা থাকলেও সেখান থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত যাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট পথ নেই।
দুপুর ১টার দিকে টিফিনের সময় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কাদা-পানি মাড়িয়ে জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে জমির আল ধরে সারিবদ্ধভাবে বাড়ির দিকে যাচ্ছে। বর্ষায় এ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায়ই কাদায় পিছলে পড়তে হয় বলে জানায় তারা।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজেদুল ইসলাম বলে, ‘জমির মাঝ দিয়ে কাদা-মাটি পেরিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় খেতের মধ্যে পড়ে যেতে হয়। তখন জমির মালিকের বকাঝকাও শুনতে হয়।’
একই শ্রেণির নাসিমা আক্তার বলে, ‘শীতের সময় আইল ধরে গেলেও বর্ষায় স্কুলে যাওয়া যায় না। জমিতে পানি উঠে যায়।’
বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, ‘একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য কোনো রাস্তা থাকবে না, এটা ভাবাই যায় না। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সরকারি উদ্যোগে দ্রুত বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করা প্রয়োজন।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পারবিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীসহ আমাদের সবাইকে বিদ্যালয়ে আসতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিদ্যালয়ের কোনো মালামাল আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। রাস্তা না থাকায় শিক্ষার্থীও বাড়ছে না; বরং দিন দিন কমে যাচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাদা-পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসতে হয়। প্রতিটি সকাল যেন তাদের জন্য নতুন এক সংগ্রাম। পিঠে বইয়ের ব্যাগ নিয়ে কাদা-পানি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে হয়। বিদ্যালয়ের জন্য একটি স্থায়ী রাস্তা খুবই প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা তৈরি হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পরিবেশও আরও সুন্দর হবে।
এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ে রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আবেদন করলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
বরিশালে সিভিল সার্জনের কক্ষে প্রতীকী তালা, অপসারণের দাবি
মহেশপুরে খালে ভাসছিলো বৃদ্ধের মরদেহ
সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবি: দুই দিন পর নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার