বিদ্যুৎস্পর্শে ঝলসে গেল দুই শিক্ষার্থীর শরীর

আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ০৯:৫৫ এএম

নরসিংদীর রায়পুরায় জাতীয় গ্রেডের ৩৩ কিলোভোল্টের লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঝলসে গেছে দুই শিক্ষার্থীর শরীর। আশঙ্কজনক অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুর ২টায় উপজেলা পলাশতলী ইউনিয়নের আশারামপুর বাজারের সমতা সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলার ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন- আশারামপুর বাজার এলাকার রিকশা চালক তাহের মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (১৬) ও সৌদিপ্রবাসী কাইয়ূম শিকদারের ছেলে আরিফুল শিকদার (১৭)। আহত নাঈমের শরীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী সুফিয়া বেগম জানান, ছাদে ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত ছিলাম। ওই সময় ছাদের এক কোণে আরিফুল ও নাঈম দাড়িঁয়ে ছিল। হঠাৎ একটি বিকট শব্দ হয়। পাশে ফিরে দেখি তারা ছাদে পড়ে রয়েছে। এগিয়ে গিয়ে ওই দুইজনের জামা ও শরীর পুড়ে যাওয়া দেখতে পাই। 

মার্কেটের ছাদ থেকে দশ-পনের মিটার দূরে থাকা জাতীয় গ্রেডের বিদ্যুৎ লাইন পুড়ে সাদা হয়েছে কিছু অংশ। তবে কিভাবে ওই লাইন থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে এ ব্যাপারে ধারণা করতে পারেননি তিনি। 
প্রত্যক্ষদর্শী কিশোর মনির হোসেন বলেন, শব্দ শুনে সমতা সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলার ছাদে গিয়ে দেখতে পান আহত নাঈমের শরীরের অর্ধেক অংশ ছাদের ওপর ও বাকি অংশ ঝুলে রয়েছে। তার পুরো শরীরে আগুন জ্বলছে। পানি দিয়ে প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। পরে আমার পরনের কাপড় দিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হই। 

আহতের স্বজনরা জানান, আহত নাঈম বর্তমানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও পাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন। আহত নাঈমের শরীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আহত আরিফুল শিকদারের মা আঁখি নূর জানান, ছেলে স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরিফুলের হাত ও পা থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঝলসে গেছে। 

আহত নাঈমের বাবা রিকশা চালক তাহের মিয়া জানান, তার ছেলে সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে। নাঈমের পুরো শরীর পুড়ে গেছে। 

পলাশতলী ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, আহত নাঈম শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও পাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত আরিফুলও চিকিসাধীন রয়েছে।

AHA/AST
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত