পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যা, মায়ের স্বীকারোক্তি

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

খুলনা নগরীর নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা।

শনিবার (১১ জুলাই) কেএমপি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

এর আগে শুক্রবার আরিফা ইয়াসমিন সিমা স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

কেএমপি কমিশনার বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

পুলিশি তদন্তের ২৪ ঘণ্টার ভেতর নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি সোনাডাঙ্গা থানাধীন বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আলিম হোসেন আকাশ ও আরিফা ইয়াসমিন সিমা দম্পতির মেয়ে। পরবর্তীতে খুলনা সদর থানা পুলিশ নিহতের বাসায় গিয়ে তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে (৩৫) জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে একপর্যায়ে স্বীকার করেন, তার মেয়ে বিভিন্ন ছেলেদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে, যার ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। আর এই পারিবারিক কলহের কারণেই মেয়ে নির্জনা এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন।

এদিকে তদন্তে নিহতের বাবা-মায়ের মাদক সেবনের বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে বিষয়টি এখনও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বর্তমানে নিহত নির্জনার বাবা আলীম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছে বলে জানান পুলিশ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, রহস্য উদঘাটন করতে সদর থানা পুলিশের একটি টিম ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ১০ জুলাই মা সিমাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনি স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন। এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি বাবা আকাশকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানের দিক নিদের্শনায় ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এম শাকিলুজ্জামান, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান, অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম, খুলনা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। 

MCH/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত