এক নারীকে স্ত্রী দাবি করে দুই পুরুষের হাতাহাতি

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

এক নারী চিকিৎসক দেখাতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী বলে পরিচয় দেওয়া এক প্রবাসী। খবর পেয়ে ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করে আরেকজন সেখানে হাজির হন। এরপর বেধে যায় গণ্ডগোল। দুই ব্যক্তিই ওই নারীকে স্ত্রী বলে দাবি করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকতে হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই দুই ব্যক্তির মধ্যে একদফা হাতাহাতি হয়ে যায়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরশহরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ পথে এই ঘটনা ঘটে। বিকেল থেকে শুরু হয়ে যা চলে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত। নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের এক নারী নান্দাইল শহরের রিতা প্যাথলজিতে যান চিকিৎসক দেখাতে। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী আবু হানিফ। তিনি নিজেকে ওই নারীর স্বামী বলে পরিচয় দেন। খবর পেয়ে ওই প্যাথলজিতে যান মো. শরীফ মিয়া নামে এক ব্যক্তি। তিনিও নিজেকে ওই গৃহবধূর স্বামী দাবি করেন। গৃহবধূর সঙ্গে তার বিয়ের কাবিননামাও দেখান। শরীফ তার লোকজন নিয়ে প্রবাসী আবু হানিফকে আটক করেন। এসময় দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে রিতা প্যাথলজির একটি কক্ষে আবু হানিফকে আটকে রাখা হয়।

শরীফ জানান, তিনি বিয়ের পর চাকরি থেকে উপার্জিত সমুদয় অর্থ স্ত্রীকে দিয়েছেন। কিন্তু তার স্ত্রী এখন দাবি করছে, সে নাকি আমাকে তালাক দিয়েছে। তালাকের পর সে নাকি বিয়ে করেছে। অথচ সে আমাকে তালাক দিলে তো আমি, আমার বাড়ির লোকজন বা গ্রামের লোকজনও জানতে পারতো। কেউ কিছু জানল না অথচ তালাকের মতো একটা বড় ঘটনা ঘটে গেল। তার স্ত্রী এখন অন্য এক পুরুষকে স্বামী বলে দাবি করছে। তিনি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে ও তার উপার্জিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন।

শরীফের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই নারী ও তার বাবা আবদুল কাইয়ুম। কাইয়ুম বলেন, আমার মেয়ে শরীফকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছে। সেই কাগজ শরীফের কাছে পাঠানো হয়েছে। শরীফ কাগজ না পেয়ে থাকলে তার দায়  মেয়ে নেবে কেন? তাছাড়া তালাকের পর আমার মেয়ে অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছে। শরীফ এখন ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করছে।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে প্রবেশের সড়কটিতে রোগীর প্রচুর আনাগোনা হয়ে থাকে। এ ঘটনা নিয়ে ওই এলাকায় যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সেজন্য উভয়পক্ষকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় গৃহবধূকে তার বাবার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জেএম
আরও পড়ুন