পবিত্র রমজান মাসে মাধ্যমিক স্তরের (ষষ্ঠ-দশম শ্রেণি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে নাকি বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করা আপিলের ওপর আজ আপিল বিভাগে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যেখান থেকে আসবে উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বাৎসরিক ছুটির তালিকায় রমজানে মাধ্যমিক স্কুল আংশিক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট ১৮ ফেব্রুয়ারি (রোজার সম্ভাব্য তারিখ) থেকে মাধ্যমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
তবে হাইকোর্টের এই আদেশে স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এর ফলে স্কুল খোলা রাখার পথ আপাতত প্রশস্ত হলেও আজ পূর্ণাঙ্গ শুনানির পর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রিট আবেদনকারীর মতে, স্বাধীনতার পর থেকে রমজানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাই বাংলাদেশের প্রথা ও নিয়ম। পবিত্র রমজানে স্কুল খোলা রাখলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রোজা রাখতে কষ্ট হয় এবং শহরের যানজট তীব্র আকার ধারণ করে, যা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিখন ঘাটতি পূরণে রমজানের কিছু দিন ক্লাস চালু রাখতে আগ্রহী।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১ রমজান পর্যন্ত ক্লাস চলার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, কলেজগুলোতে পুরো রমজান মাস ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মাদরাসাগুলোতে ইতোমধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজানের ছুটি শুরু হয়েছে।
এখন সবার নজর আজ আপিল বিভাগের শুনানির দিকে। আদালত কি মাধ্যমিক স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্তে অটল থাকবে, নাকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আপিল মঞ্জুর করে স্কুল খোলা রাখার অনুমতি দেবে—তা আজই স্পষ্ট হবে।
পুরো রমজান মাস স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ
