ভোটে হেরে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা রাজের, সৌরভ পালোধির খোঁচা

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বারাকপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রখ্যাত নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক মাধ্যমে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পরপরই টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিশেষ করে পরিচালক ও নাট্যব্যক্তিত্ব সৌরভ পালোধির এক কড়া পোস্ট রাজের এই সিদ্ধান্তকে নতুন করে আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসেছে।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং বিজেপির উত্থানের আবহে বারাকপুর আসনটি ধরে রাখতে ব্যর্থ হন রাজ চক্রবর্তী। পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তিনি জানান, তিনি আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকতে আগ্রহী নন। মূলত চলচ্চিত্র নির্মাণেই এখন পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে চান তিনি।

রাজ চক্রবর্তীর এই ‘হঠাৎ প্রস্থান’ মেনে নিতে পারেননি টলিউডের বামপন্থী ঘরানার পরিচালক সৌরভ পালোধি। নাম না করে রাজকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘হেরে গেলে কি রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে যায়? এদেরকে কি মৌলিক রাজনৈতিক শিক্ষার কোনো বই উপহার দেওয়া যায় না?’

সৌরভ আরও স্পষ্ট করেন যে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতায় থাকার বা বিধায়ক হওয়ার সিঁড়ি নয়। তার মতে, যারা কেবল সুবিধাভোগের জন্য রাজনীতিতে আসেন, তারাই হেরে গেলে ময়দান ছেড়ে পালান। সৌরভের এই মন্তব্যকে নেটিজেনরা রাজ চক্রবর্তীর ‘লড়াই করার মানসিকতার অভাব’ হিসেবেই দেখছেন।

২০২১ সালে বিপুল ভোটে জিতে বিধায়ক হিসেবে কাজ করলেও ২০২৬-এর নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরপরই রাজের এমন সিদ্ধান্তে টালিউড পাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, পেশাদার চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে রাজের এই সিদ্ধান্ত সঠিক। আবার অনেকের মতে, রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস থাকলে পরাজয়ে এভাবে পিছু হটা উচিত নয়।

সৌরভ পালোধির এই তীক্ষ্ণ সমালোচনার জবাবে রাজ চক্রবর্তী এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। তবে পরাজয়ের গ্লানি আর সহকর্মীদের খোঁচায় রাজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে।

FJ
আরও পড়ুন