হলিউডের বিনোদন জগতে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা ঘটিয়ে ১১০ বিলিয়ন ডলারের এক ঐতিহাসিক মার্জারের মাধ্যমে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে নিয়েছে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স। লস অ্যাঞ্জেলেসের অন্যতম দুটি শীর্ষ স্টুডিওর এই একত্রীকরণ পুরো মিডিয়া ও বিনোদন খাতকে নতুন করে সাজাতে যাচ্ছে।
বহু মাসের আইনি লড়াই এবং প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গণমাধ্যম সমালোচকদের তীব্র আপত্তির পর চূড়ান্ত হলো এই চুক্তিটি। এই ঐতিহাসিক মার্জারের ফলে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের স্ট্রিমিং অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি এটি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি করেছে অনিশ্চয়তা।
এই চুক্তির মাধ্যমে এইচবিও, সিবিএস, নিকিলোডিয়ন, শো-টাইম, কমেডি সেন্ট্রাল, ডিসি স্টুডিও এবং ফুড নেটওয়ার্কের মতো বিশ্বখ্যাত সব ব্র্যান্ড এখন এক ছাতার নিচে চলে এলো। এর ফলে প্যারামাউন্টের বিদ্যমান হিট ফ্র্যাঞ্চাইজি 'ইন্ডিয়ানা জোন্স', 'মিশন: ইম্পসিবল' এবং 'শ্রেক'-এর তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের 'হ্যারি পটার', 'গেম অব থ্রোনস' এবং 'লর্ড অব দ্য রিং'-এর মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।
একত্রিত হওয়া বিশাল এই নতুন বিনোদন সংস্থাটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে 'স্কাইড্যান্স করপোরেশন'। ডেভিড এলিসন এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়াকে চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এক 'ঐতিহাসিক মুহূর্ত' বলে অভিহিত করেছেন। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চুক্তিটির প্রশংসায় বলেছেন, "তারা অসাধারণ মানুষ এবং এটি একটি দুর্দান্ত কোম্পানি হতে যাচ্ছে।"
ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংগঠিত করতে খেলনা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাটেলের বিদায়ী সিইও ইনন ক্রেইজকে কো-সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ক্রেইজ কোম্পানির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, অন্যদিকে প্রযুক্তি ও স্ট্র্যাটেজিক নীতি নির্ধারণের কাজ দেখবেন ডেভিড এলিসন। মার্জার সত্ত্বেও সিএনএন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের বর্তমান চেয়ারম্যান ও এডিটর-ইন-চিফ মার্ক থম্পসন এবং সিবিএস নিউজের এডিটর-ইন-চিফ বারী ওয়াইস নিজ নিজ পদে বহাল থাকছেন। তবে এইচবিও ও ম্যাক্স কনটেন্টের প্রধান কেসি ব্লয়েসকে স্ট্রিমিং অপারেশনের প্রধান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
যে আইনি পথ পেরিয়ে চূড়ান্ত হলো চুক্তি
দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই মার্জার প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রথমে নেটফ্লিক্স ওয়ার্নার ব্রাদার্সের অংশবিশেষ কেনার দৌড়ে থাকলেও প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স দর হাঁকালে তারা সরে দাঁড়ায়। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের আইনি দল আদালতে মামলা দায়ের করে। তাদের দাবি ছিল, এই মার্জার বাজারে প্রতিযোগিতা কমাবে, গ্রাহকদের খরচ বাড়াবে এবং সিনেমা হল ও ক্যাবল ডিস্ট্রিবিউটরদের ক্ষতি করবে।
তবে গত মাসে রাজ্যগুলোর সঙ্গে প্যারামাউন্টের একটি সমঝোতা হওয়ায় মার্জারের আইনি পথ সুগম হয়। সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে সিএনএন ও সিবিএস নিউজে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশন নিশ্চিত করতে একটি "সংবাদ সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বোর্ড" গঠনের শর্তে রাজি হয়েছে প্যারামাউন্ট। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানিটিকে বছরে অন্তত ৩০টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে এবং এআই (AI) দিয়ে তৈরি নিম্নমানের কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিয়ম মানতে হবে। বার্ষিক এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে মিরাম্যাক্সে থাকা তাদের ৪৯ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য থাকবে কোম্পানিটি।
সূত্র: বিবিসি
ডিমের দাম দিয়ে সরকারের তিন সিদ্ধান্তের সমালোচনা নাহিদ ইসলামের
নতুন শঙ্কায় বিশ্ববাজারে বাড়লো তেলের দাম